৬ দিন ধরে রাজপথে ( ৩য় ধাপ ) শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবিতে

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শুক্রবার (২১ জুন) সকালে মানববন্ধন চলছিল। এ মানববন্ধনের মাইকের আওয়াজের পাশাপাশি আরেকটি মাইকে প্রতিবাদ, দাবি-দাওয়ার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু আশপাশে তাকিয়ে সেটার সন্ধান পাওয়া গেল না।

প্রেস ক্লাবের উত্তর দিকের ফুটপাতে কয়েকটি চায়ের দোকান রয়েছে। দোকানগুলোর পরই ফুটপাতের উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় কিছু মানুষ। সেখানে নারী, পুরুষ– উভয়ই রয়েছেন। বর্ষাকালে হঠাৎ রোদ, বৃষ্টির আনাগোনা থেকে বাঁচতে অল্প-স্বল্প জায়গায় টাঙিয়েছেন পলিথিন। আবার কোথাও ফাঁকা। ফুটপাতজুড়ে কেউ ভাব-লেশহীনভাবে সেখানে পড়ে আছেন। অনেকে সংঘবন্ধভাবে অবস্থান নিয়েও আছেন। আবার কেউ কেউ মাউথ-পিস হাতে নিজেদের দাবি-দাওয়ার কথা বলছেন। দাবি-দাওয়ার জন্য অবস্থান নিলে সাধারণত সবাই প্রেস ক্লাবের সামনেই নেয়। তবে তাদের ঠাঁই সেখানে হয়নি।

এখানে অবস্থানকারীরা সবাই তৃতীয় ধাপেও জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত দেশের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাদের একটাই দাবি, বঞ্চিত বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকে তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ করা।

এ দাবিতে রোদ, বৃষ্টি, গরম উপেক্ষা করে গত ছয় দিন তারা এখানে অবস্থান করছেন। এতে ১৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা হলেন- সুভন্দ্রা বৈরাগী, ছালেহা খাতুন, আসমা খাতুন, রিনা বেগম, আকলিমা, মো. এনামুল হক, ধরনী মহন রায়, মো. সানাউল হক, মো. ফজলুল হক, মশিয়ার রহমান, লায়লা পারভীন, সেকেন্দার ও মিনা আক্তার।

আন্দোলনকারীরা জানান, গত বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮ দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন করেন তারা। তাদের অনশনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতীয়করণ হালনাগাদের জন্য তথ্য চাওয়া হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি দায়সারা তথ্য দিলে আমাদের এ বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হয়।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাই বাধ্য হয়ে এ বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি। মরতে হয় মরব, তবু জাতীয়করণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না।

এর আগে ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিলেন বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।