অনিয়ম শিক্ষক আত্তীকরণে

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সম্প্রতি জাতীয়করণ হওয়া শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আইডিয়াল কলেজের ছয়জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্তীকরণের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কলেজটি সরকারি ঘোষণার পরপরই আত্তীকরণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গত ৯ এপ্রিল এক অফিস আদেশ তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজের অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তাদের যৌথ স্বাক্ষরে শিক্ষক-কর্মচারী আত্তীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ১৬ মের মধ্যে অধিদপ্তরে পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অধ্যক্ষকে অনুরোধ করা হয়।

ওই অফিস আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, ‘নিয়োগকালীন ও নিয়োগ পরবর্তী সময়ে কোনো শিক্ষক অন্য কোথাও কর্মরত থাকতে পারবেন না। যোগদানের তারিখ থেকে তারা ধারাবাহিক কর্মরত রয়েছেন।’

অথচ বাস্তবে আত্তীকরণ প্রক্রিয়াধীন এ কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞানবিষয়ক প্রভাষক মো. শফি কামাল ২০১০ সালে এ কলেজে নিয়োগ প্রাপ্তির পরও রানীরহাট আইডিয়াল কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। রসায়ন বিষয়ের প্রভাষক সমর কুমার সরকার নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আত্রাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করছেন। এ ছাড়া গণিতের প্রভাষক মো. শামীম আহমেদ তাড়াশের বিনোদপুর দাখিল মাদরাসার কর্মরত থেকে নিয়মিত বেতন নিয়েছেন। যা মাউশির ওয়েবসাইটেও রয়েছে। এই তিনজন প্রভাষক অন্যত্র চাকরি করার পরও ২০১০ সাল থেকে কলেজের হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করে আসছেন।

আদেশে আরো উল্লেখ রয়েছে, ‘সব পরীক্ষা পাসের সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এনটিআরসির নিবন্ধন সনদ যাচাই করতে হবে।’ কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তা অনুসরণ করেননি। ফলে ভুয়া নিবন্ধন সনদে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক কামরুল ইসলাম ২০১০ সালে নিয়োগ পান। আবার একই সঙ্গে তিনি আত্তীকরণেও অন্তর্ভুক্ত হন। ভূগোলের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন এবং পৌরনীতি ও সুশাসনের প্রভাষক মো. ইলিয়াস উদ্দিনও ভুয়া নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে আত্মীকরণে অন্তর্ভুক্ত হন। নিয়োগের সময় আনোয়ার হোসেনের শিক্ষক নিবন্ধনের রোল দেখানো হয় ৯০০০৫৬৮৫/২০০৯ এবং ইলিয়াস উদ্দিনের শিক্ষক নিবন্ধন রোল দেখানো হয় ৯০০১০৪৫০/২০০৯। অথচ এনটিআরসির ফলাফল বিভাগে তাঁদের নামই নেই।

শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব আইডিয়াল কলেজটি ২০০৯ সালে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে চকমির্জাপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হোসেন মনসুর। পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান মনসুর বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা থাকলে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখবে।