মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম : ৫০৯টি প্রাইমারি স্কুল প্রাথমিকভাবে মনোনীত

কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মনিটরিং হবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের পাঠদান প্রক্রিয়া। এক পাইলট প্রকল্পের অধীনে প্রাথমিকভাবে মনোনীত ৫০৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নসংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপনের জন্য ৫০৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নির্বাচিত করা হয়। এজন্য ই-জিপি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সেবা ক্রয়ের জন্য পাঁচটি লটে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এ প্রকল্পের আওতায় যেসব যন্ত্রাংশ কেনা হবে, তার মধ্যে রয়েছে ইন্টারঅ্যাকটিভ হোয়াইট বোর্ড (আইডব্লিউবি), শর্ট থ্রো পুট প্রজেক্টর, সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (সিপিইউ), ইউপিএস, সাউন্ড সিস্টেম, লাইসেন্সড কোলাবরেটিভ সফটওয়্যার ফর ইন্টারঅ্যাকটিভ হোয়াইট বোর্ড ইত্যাদি। এছাড়া ব্যবহারিক প্রশিক্ষণসহ ইন্টারঅ্যাকটিভ হোয়াইট বোর্ড যুক্ত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের জন্য চাহিদাভিত্তিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।  শিগগিরই এসব ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমগুলোকে মনিটরিং করার জন্য বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ডিভাইস ও ওয়াই-ফাই ক্লাউড ক্যামেরা ব্যবহারের প্রস্তাবনা রয়েছে। শনিবার (২৭ জুলাই) বণিকবার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত শিক্ষা বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষার ওপর। উপযুক্ত শিক্ষক বাছাই ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে মাথায় রেখে শ্রেণিকক্ষ তৈরি করার বিষয়েও জোর দেয়া হয়েছে এতে। এ ছাড়া বাজেটে ন্যানো টেকনোলজি, রোবোটিকস, ব্লক চেইন ম্যানেজমেন্ট ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ওপর গুরুত্বারোপের কথাও বলা হয়। এ লক্ষ্য পূরণের জন্য ‘ডিজিটাল প্রাথমিক শিক্ষা’ নামে একটি পাইলট প্রকল্পের উল্লেখ করা হয় এতে, যেখানে ৫০৩টি মডেল বিদ্যালয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ ক্লাসরুম স্থাপনের কথা বলা ছিল। সে আলোকেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে তারা এ-ও জানিয়েছেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাব ও অসচেতনতার কারণে যেসব বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া পাঠদান চালু হয়েছে, তার বেশির ভাগই অব্যবহৃত থাকছে। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের ডিভাইস ব্যবহারসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের অধিকাংশই মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতির জন্য ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরিতেও অসমর্থ। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম থাকা সত্ত্বেও সনাতন পদ্ধতিতে পাঠদান দিতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

আবার নিয়মিত ব্যবহার না হওয়ায় স্থাপিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমগুলোর বিভিন্ন ডিভাইস অনেকটা অবহেলিত অবস্থাতেই পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রশিক্ষণের অভাবে শিক্ষকরাও ঠিকমতো কম্পিউটার ও প্রজেক্টরগুলোর সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারছেন না। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি স্থাপনের কিছুদিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পাশাপাশি এর যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া খুবই জরুরি। পাশাপাশি এ পদ্ধতিতে পাঠদানের কন্টেন্ট সম্পর্কেও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় বড় বরাদ্দের প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন ঠিকই হবে, কিন্তু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে।