প্রধান শিক্ষকদের ১০তম, সহকারীদের ১২তম গ্রেডের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে

সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেড আর আর প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড- এমন প্রস্তাবই করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গ্রেড পরিবর্তনের এই প্রস্তাব মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১১তম গ্রেডে বেতন প্রদান ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। আন্দোলনে ছিলেন প্রধান শিক্ষকরাও। মূলত তাদের সেই দাবি মেটাতেই এমন প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও ১২তম গ্রেডের সুপারিশ নিয়ে সহকারী শিক্ষক নেতাদের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের মর্যাদাপূর্ণ গ্রেড প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়। এটিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান ১৪তম গ্রেডের পরিবর্তে ১২তম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের পরিবর্তে দশম গ্রেডে উন্নীত করতে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। মঙ্গলবার এ প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, শিক্ষকদের নতুন গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখন উভয় মন্ত্রণালয় সভা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

সূত্রের তথ্য, দীর্ঘদিন ধরেই সহকারী শিক্ষকরা বেতনবৈষম্যের প্রতিবাদে সরব ছিলেন। বর্তমান সরকার টানা তৃতীয় মেয়াদে শপথ নেয়ার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জাকির হোসেন। নতুন প্রতিমন্ত্রীকে সহকারী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এক সংবর্ধনা দেয়া হয়। সেখানে প্রতিমন্ত্রী সহকারী শিক্ষকদের বেতন প্রধান শিক্ষকদের পরের গ্রেডে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।

কিন্তু হিসাব-নিকাশ উল্টে যায় গত ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি। এ দিন হাইকোর্ট এক রিটের চূড়ান্ত শুনানিতে আদেশ প্রদান করে প্রধান শিক্ষকদের বেতন দিতে হবে দশম গ্রেডে। এর আগে সরকারের পরিকল্পনা ছিল প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ঠিক রেখে সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১২তমতে উন্নীত করা। কিন্তু কোর্টের নির্দেশে প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেড পাওয়ায় সহকারী শিক্ষকরা এখন ১১তম গ্রেড দাবি করছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে বা পরে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন ছিল একই। কিন্তু স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে এসব বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। যার নিরসন করতেই তারা আন্দোলন করছেন। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষকের পর একটি সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। এটিরও বিরোধিতা করছেন সহকারী শিক্ষকরা। তাদের ভাষায়, এ পদ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেডে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও তার পরের গ্রেডে সহকারী শিক্ষকদের রেখে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। তাদের ভাষায়, এটি হলে বৈষম্য কমবে না। বরং তা স্থায়ী রূপ লাভ করবে। এছাড়া এ পদকে অপ্রয়োজনীয় বলেও মনে করছেন সহকারী শিক্ষকরা। বরং তারা সহকারী প্রধান শিক্ষকের পরিবর্তে একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেয়ার পক্ষে।
বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দুই ধরণের শিক্ষক রয়েছেন- ১. প্রধান শিক্ষক ২. সহকারী শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে পাঠদানের মূল কাজটি করেন সহকারী শিক্ষকেরা। অথচ বর্তমানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বেতন গ্রেডের পার্থক্য চার ধাপ। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকেরা বেতন পাচ্ছেন দশম গ্রেডে (১৬০০০ টাকা স্কেলে, কোর্টের রায় অনুসারে যেহেতু বকেয়াও পাবেন) এবং সহকারী শিক্ষকেরা বেতন পান ১৪নং গ্রেডে (১০২০০ টাকা স্কেল)।