নতুন উদ্যোগ প্রাথমিকের বেতন বৈষম্য নিরসনে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদার হলেও তারা বেতন পাচ্ছেন ১১তম গ্রেডে। অথচ একই পদমর্যাদার অন্য সরকারি কর্মকর্তারা বেতন পান ১০ম গ্রেডে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠালে তাতে অসম্মতি জানানো হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় চার লাখ শিক্ষক। তবে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আবারো নানা ধরনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘গ্রেডবৈষম্য নিরসন ও বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। সেটি নাকচ হয়েছে সম্প্রতি। আমরা আবারও প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বেতনবৈষম্য নিরসন নিয়ে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করব। সব শিক্ষকদের এ ব্যাপারে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিকের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা এখন বেতন পাচ্ছেন ১১তম গ্রেডে। আর প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ১২তম গ্রেডে। তবে মন্ত্রণালয় শুধু প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা এখন বেতন পাচ্ছেন ১৪তম গ্রেডে। আর প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১৫তম গ্রেডে। মন্ত্রণালয় তাদের জন্য একটি মাত্র গ্রেড ১২তম দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।

মন্ত্রণালয় যুক্তি তুলে ধরে বলেছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ভূমিকা অনেক। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান অন্য যেকোনো পেশা থেকে আলাদা ও মর্যাদাকর। শিশুদের মনন ও মেধা বিকাশের মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভার উন্মেষ ঘটাতে স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ অপরিহার্য। সেই সঙ্গে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর বেতন স্কেল ও পদমর্যাদা নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রধান শিক্ষকরা যেহেতু দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদাপ্রাপ্ত, তাই তাঁদের বেতন অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তার মতো ১০ম গ্রেডে হওয়া বাঞ্ছনীয়।

বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজার ৯০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোতে তিন লাখ ২৫ হাজার সহকারী শিক্ষক ও ৪২ হাজার প্রধান শিক্ষক রয়েছেন।