দূরদর্শী জ্ঞান সম্পন্ন নেতৃত্ব ছাড়া প্রাথমিকের আন্দোলন ব্যর্থ হতে পারেদূরদর্শী জ্ঞান সম্পন্ন নেতৃত্ব ছাড়া প্রাথমিকের আন্দোলন ব্যর্থ হতে পারে

জনপ্রিয়তাহীন, অগ্রহণযোগ্য এবং বিতর্কিত ব‍্যক্তিকে নির্বাহী আসনে বসানো, সাংগঠনিক অপরিপক্বতা এবং অদূরদর্শিতার কারণে ঐক‍্য পরিষদের সফলতা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা।

অনেক আশা নিয়ে গঠন করা হয়েছিল বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ। কিন্তু ১৪ সালে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বৈষম্য সৃষ্টি করার প্রধান কুশীলব,লক্ষ লক্ষ সহকারী শিক্ষকদের শত্রু, একজন অগ্রহণযোগ্য,বিতর্কিত ব‍্যক্তিকে প্রধান উপদেষ্টার আসনে বসিয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষক সংগঠন সকলের কাছে জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য আতিক কাসেম স‍্যারদের ঐক‍্য জোটে কোনো সম্মানজনক পদ না দিয়ে সহকারী নেতারা অপরিপক্বতা এবং অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে।
সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে যারা সিনিয়র তারা নিশ্চয়ই ১৪ সালের ইতিহাস ভুলে যায়নি। তখন ২ ধাপ বৈষম্য সৃষ্টিকারী আজ ঐক‍্য পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা।যিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক দিয়েও বিতর্কিত। তারপরও তাকে মেনে নেয়া হয়েছিল সহকারী শিক্ষকদের বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে। কিন্তু সহকারী নেতাদের নির্বুদ্ধিতার কারণে আজ বিতর্কিত ব‍্যক্তির পরামর্শে ঐক‍্যজোট পরিচালিত হচ্ছে যার কারণে সারাদেশব‍্যাপী প্রতিক্রিয়া চলমান।
ঐক‍্যজোটের সম্মানিত আহ্বায়ক এবং সদস‍্য সচিব, আপনাদের কাছে প্রশ্ন,কোনো সংগঠন যদি জোটভুক্ত হয়, তাহলে তারা কি জোটের সিদ্ধান্তের বাহিরে আলাদা কর্মসূচি দিতে পারে?আর সেই কর্মসূচিতে আপনারা জোটের শীর্ষ নেতা হিসেবে নৈতিক সমর্থন দিতে পারেন কি? বিষয়টি কি হাস‍্যকর হয়ে গেলো না?
প্রিয় দুই নেতা, শুধু পেশাজীবী নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও যদি জোট হয় সেখানেও দেখা গেছে জোটের আহ্বায়ক,না হয় সদস্য সচিব, বা মুখপাত্রের স্বাক্ষরে চিঠি/আদেশ হয়ে থাকে। কিন্তু এ কি দেখছি!
কোনো কালেই দেখিনি প্রধান উপদেষ্টা জোটের চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে। তাহলে বুঝতেই হবে ঐক‍্য পরিষদ কারো নির্দেশনায় চলছে!যার ফলে সাধারণ শিক্ষকরা চরম প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছে।
সম্মানীত দুই সহকারী নেতা,আতিক কাসেম স‍্যারের সংগঠন কে বাদ দিয়ে ঐক‍্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কাসেম স‍্যারের সাথে আপনারা সহ আপনাদের সংগঠন/ঐক‍্য পরিষদের অনেক নেতারা সমস‍্যার সমাধানের জন্য ফোনে কথা বলেছেন এবং সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী ২৭/৯/১৯ তারিখ বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় বৈঠকে বসবেন। অথচ সিদ্ধান্ত নেয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা সহ আপনাদের স্বাক্ষরিত ঐক‍্য জোটের ব‍্যানারে একটি চিঠি ফেসবুকে প্রকাশিত হয়েছে।
এটা কি? একদিকে কাশেম স‍্যারকে ফোন দিয়ে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত,অন‍্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা সহ তিনজনের স্বাক্ষরিত চিঠি।এটা তো তাহলে নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়।
আপনারা যারা ঐক‍্য পরিষদ গঠনে সর্ববৃহৎ সংগঠন এবং জনপ্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত লোককে ঐক‍্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে আপনাদের নেতৃত্ব সহকারী শিক্ষকদের দাবি আদায়ে কতটুকু সফল হবেন তা সাধারণ শিক্ষকদের কাছে সহজেই অনুমেয়।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (আতিক কাসেম ) একটি মাদার সংগঠন।যোগ‍্য সম্মান দিতে আপনারা ব‍্যর্থ হয়েছেন।অথচ ১৯ তারিখের নির্ধারিত মানববন্ধনের আগে থেকেই শিক্ষকদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকল সংগঠনকে একত্রিত করে একটা জোট গঠনে মুখ‍্য ভূমিকা পালন করেছে। সহকারী শিক্ষকরা বার বার বৈষম্যের শিকার হওয়ায়,ঐক‍্যের মিটিংয়ে কাসেম স‍্যার প্রথমে একজন সহকারী শিক্ষক নেতাকে আহ্বায়ক করার প্রস্তাব দেন যা মিটিংয়ে উপস্থিত সকল শিক্ষকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। কিন্তু সেই সহকারী শিক্ষকদের পক্ষে কথা বলা সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং দূরদর্শী জ্ঞান সম্পন্ন নেতাদের বাদ দিয়ে ঐক‍্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন যা কতটুকু যৌক্তিক সিদ্ধান্ত তা সাধারণ শিক্ষকরা বুঝে নিয়েছেন।
প্রিয় দুই সহকারী নেতা,ঐক‍্য পরিষদ গঠন আপনাদের পরিশ্রমের ফল। অনেক বাঁধা,সমস‍্যার সমাধান করে শিক্ষকদের স্বার্থে ঐক‍্য পরিষদ গঠন করেছেন। ইতোপূর্বে কয়েকটি সহঃ সংগঠন একত্রিত হয়ে বৈধ রেজিঃ ধারী মহাজোট গঠন করেছিল।এক বছর নয় মাসে তারা সহকারী শিক্ষকদের কোনো অর্জন দেখাতে পারেনি।এর দুটি কারণ,এক হলো সংগঠনের নেতৃত্ব ধরে রাখা, অপরদিকে বাদ দেয়া সংগঠন গুলোর নেতাদের দমিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আঁতাত করা।
তাদের ব‍্যর্থতা আপনাদেরকে এনে দিয়েছে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা, আপনাদের কে সুযোগ করে দিয়েছে তিন লক্ষাধিক শিক্ষকের প্রতিনিধিত্ব করে বেতন বৈষম্য নিরসন করার। আমি আশাবাদী আপনারা এই মোক্ষম সুযোগ কে নিজেদের ভুলের জন্য হেলায় হারাবেন না। মনে রাখবেন,পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত এবং দূরদর্শী নেতৃত্বই এনে দিতে পারে সফলতা।
প্রিয় নেতৃবৃন্দ, আমার এ লেখা বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের বিরুদ্ধে নয়। কিংবা বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির অবস্থানও ঐক‍্য পরিষদের বিপক্ষে নয়। আমি ঐক‍্য পরিষদের নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্ত গুলো তুলে ধরেছি মাত্র।

পরিশেষে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি চাই বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের মাধ্যমেই প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন হোক।ঐক‍্য পরিষদের কর্মসূচিতে আমার সমর্থন থাকবে। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি(আতিক কাসেম) ঐক‍্য পরিষদের বিপক্ষে নয়।শিক্ষকদের দাবি আদায়ে যে কোনো কর্মসূচির পক্ষে নৈতিক সমর্থন থাকবে বলে জানিয়েছেন সমিতির সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম স‍্যার।

এ,কে, আজাদ খান
প্রধান শিক্ষক
মধ‍্য চাড়াখালী সপ্রাবি
রাজাপুর, ঝালকাঠি।