প্রাথমিক আন্দোলনকারী শিক্ষকদের তালিকা করছে মন্ত্রণালয়

বেতন বাড়ানোর দাবিতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে আন্দোলনে নেমেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) বদরুল হাসান বাদল বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তাই বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের আন্দোলন না করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, তারপরও আমাদের নির্দেশনা উপেক্ষা করে যে সকল শিক্ষক আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন এবং হবেন, তাদের তালিকা তৈরি করা হবে। এজন্য ডিপিইকে নির্দেশনা দেয়া হবে। তাদের শনাক্ত করে চাকরিবিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তবে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, নির্দেশনা অমান্য করে যেসব শিক্ষক আন্দোলনে যুক্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য আন্দোলকারী শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিপিই) নির্দেশনা দেয়া হবে। ।

এদিকে ক্লাস না নিয়ে শিক্ষকরা আন্দোলন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। এক অভিবাবক বলেন, ‘সন্তানকে স্কুলে পাঠাই পড়ালেখা শেখার জন্য, কিন্তু স্কুলের স্যারেরা তাদের আন্দোলন করেন আর শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে সময় পার করে। ঘুমানের জন্য স্কুলের যাওয়ার দরকার কী? বাড়িতে বিছানা আছে, প্রয়োজনে বাড়িতে সারাদিন ঘুমালেও কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না।’ আগামীকাল থেকে ছেলেকে স্কুলে পাঠাবেন না বলে জানান এই অভিভাবক।

প্রসঙ্গত, বেতন-বৈষম্য নিরসনের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলনে নেমেছেন সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক। এজন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের মোট ১৪টি সংগঠন মিলে সম্প্রতি গঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’। এই পরিষদের মাধ্যমে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার পর গত সোমবার থেকে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।