যেসব সুযোগ-সুবিধা পাবে শিক্ষকরা এমপিওভুক্তিতে

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে বহুদিন ধরে শিক্ষক কর্মচারীরা আন্দোলন করে আসছেন। গত প্রায় ১০ বছর ধরে নতুন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করেনি সরকার। অবশেষে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘোষণা এলো প্রায় তিন হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই সুবিধা দেয়া হবে।

আসুন জেনে নিই এমপিওভুক্তির ফলে কি কি সুযোগ সুবিধা পাবে এর আওতাভুক্ত শিক্ষকরা-

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী নতুন ঘোষিত প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ দিলে বর্তমানে ২৬ হাজারের কিছু বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাতে রয়েছেন পাঁচ লাখের মতো শিক্ষক ও কর্মচারী। এই অর্থবছরে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এমপিও সুবিধা হিসেবে এক হাজার কোটি টাকার মতো বরাদ্দ রেখেছে। গত অর্থ বছরে তা ছিল এর অর্ধেকের মতো।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ যে অর্থ সরকার দিয়ে থাকে তাকে ইংরেজিতে বলা হয় মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা এমপিও। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল অনুযায়ী এই সহায়তা দেয় সরকার।

শিক্ষকদের সংগঠন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান আলম সাজু বলছিলেন, সরকারি স্কেল অনুযায়ী বেতন পান একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা। তাতে প্রধান শিক্ষকের বেতন দাঁড়ায় ২৯ হাজার টাকা। একজন সাধারণ শিক্ষকের বেতন ১৬ হাজারের মতো।

এর বাইরে রয়েছে বাড়িভাড়া হিসেবে এক হাজার টাকা, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা।

ঈদ উৎসব ভাতা শিক্ষকদের জন্য বেতনের ২৫ শতাংশ আর কর্মচারীদের জন্য বেতনের ৫০ শতাংশ। পয়লা বৈশাখেও একই পরিমাণে উৎসব ভাতা দেয়া হয়ে থাকে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকার প্রায় তিন হাজার নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। তবে আবেদন পড়েছিল নয় হাজারের বেশি।

সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে তাতে কোনো রকমে পাঠদান করলেই হবে না। এমপিও সুবিধা পেতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।

মো. শাহজাহান আলম সাজু বলছেন, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাসের হার অনুযায়ী সেটি নির্ধারিত হয়ে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী এমপিওভুক্ত হতে হলো কলেজ পর্যায়ে অন্তত ৬০ জন পরীক্ষার্থী থাকতে হবে।

মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে তা ৪০ জন। কিন্তু যারা পরীক্ষা দিচ্ছেন তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ পাসের হার থাকতে হবে। মাদ্রাসার জন্য তা ৬০ শতাংশ।