১২ তম গ্রেড দিতে তোড়জোড় সমাপনি পরীক্ষার আগেই সহকারি শিক্ষকদের

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে, সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ১১ তম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে বেতনের প্রস্তাব খুব শীঘ্রই পাঠানো হচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের। প্রাথমিকে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টিতে শুরু থেকেই শিক্ষকরা দ্বিমত পোষণ করে আসছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেড এবং সহকারি শিক্ষকদের ১১ গ্রেডের দাবিতে আলাদা আন্দোলন করে আসলেই সম্প্রতি দশ টি শিক্ষক সংগঠন এক সাথে লাগাতার আন্দোলন ও মহাসমাবেশ করে। গত ২৩ অক্টোবর শহিদ মিনারে শিক্ষকদের মহাসমাবেশ পুলিশের লাঠিচার্জে দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে।

শহিদ মিনারে শিক্ষকদের মহাসমাবেশ পুলিশের বাধায় পণ্ড হলে ১৩ নভেম্বরের মধ্যে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবি না মানলে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জনসহ লাগাতার কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন ঐক্য পরিষদের নেতারা।

শিক্ষকদের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণায় টনক নড়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং সচিব বিভিন্ন আশ্বাস দিলেও শিক্ষকরা তাদের আশ্বাসে ভরসা করতে না পেরে তাদের কর্মসূচীতে অনড় অবস্থানে থাকায় তড়িঘড়ি করে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে, সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ১১ তম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে বেতনের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেশ ক’জন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার আগেই প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে বাস্তবায়নের সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। এজন্য ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

তবে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের ১০ দশম গ্রেডের প্রস্তাব করা হলেও সহকারি শিক্ষকদের ১২ তম গ্রেড প্রস্তাব করায় মেনে নিতে পারছেন না সহকারি শিক্ষকরা। ১১ তম গ্রেডের দাবিতে তারা তাদের কর্মসুচি অব্যাহত রাখবেন বলে জানান কয়েকজন শিক্ষক নেতারা।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা বলেন, যদি ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে অর্থাৎ বেতন বৈষম্য শুরু হওয়া থেকে বকেয়াসহ সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে বেতন দেয়া হয়, তাহলে শিক্ষকদের ক্ষতি হবে না। তবে, বকেয়া না দেয়া হলে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দিতে হবে।