প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষকদের বৈঠক সমাপনী পরীক্ষার পর

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের ১১তম, সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ১২তম এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। এটি একধরনের প্রহসন বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, অর্থ বিভাগের সম্মতি পাওয়া গেছে। এর আগে প্রধান শিক্ষকদের ১০তম ও সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নাকচ করে দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা আবারও তাদের সঙ্গে আলোচনা করি। নতুনভাবে আলোচনার মাধ্যমে প্রধানদের ১১তম ও সহকারী প্রধানদের ১২তম এবং সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডের জন্য প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়। তার ভিত্তিতে আমরা প্রস্তাব পাঠাই। সেটি তারা লিখিতভাবে সম্মতি জানিয়েছে, এখন বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। আমরা তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। সমাপনী পরীক্ষার পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

প্রাথমিকের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকরা বেতন বৈষম্য নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। এ দাবিতে আসন্ন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাও বয়কটের হুমকি দিয়েছিলেন তারা। পরে বেতন বৈষম্য নিরসনে গত ২৮ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত ৭ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে এখন থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন) জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ এর ১১তম গ্রেডে (১২৫০০-৩০২৩০ টাকা) এবং সহকারী শিক্ষক (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং প্রশিক্ষণবিহীন) ১৩তম গ্রেডে (১১০০০-২৬৫৯০ টাকা) বেতন পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু নতুন এ বেতন স্কেল প্রত্যাখ্যান করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এটি একধরনের প্রহসন। আমরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছি।’ অন্যথায় নতুনভাবে আন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।