আয়কর হিসাব যে ভাবে করবেন

আয়কর আইনের ৫০ ধারা সংশোধন করা হয়েছে যা সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য প্রযোজ্য। ১২ মাসের মূল বেতন ও বোনাসের (ঈদ/পূজা) টাকা যোগ করে ১২ দিয়ে ভাগ করবেন। (এ হিসাবটা জুলাই মাসে করবেন সবাই)। যেমন কারো মূল বেতন মাসে ৩০ হাজার টাকা হলে তাঁর সারা বছরে বেতন, ২টা উৎসব ভাতা হবে (৩০,০০০/ গুন ১২ + ৩০,০০০/গুন ২)= ৪,২০,০০০/- এরপর পুরুষ হলে ২,৫০,০০০ টাকা এবং মহিলা হলে ৩,০০,০০০ বাদ দিয়ে যা হবে তাঁর ১০% আয়কর দিতে হবে। অনেক সময় মুসলিমদের বোনাস ২রকম সংখ্যায় হয়, এটা খেয়াল রাখতে হবে। এ টাকাকে ১২ দিয়ে ভাগ করে প্রতি মাসের বেতন বিলে কর্তন করে বেতন উত্তোলন করতে হবে। সারা বছরের মোট বেতন ও বোনাস ৪ লাখের উপরে হলে অতিরিক্ত অর্থের ১৫% টাকা ট্যাক্স দিতে হবে। উপরের হিসাব অনুযায়ী-পুরুষকে (৪,২০,০০০-২,৫০,০০০)=১,৭০,০০০/- টাকার উপরে আয়কর দিতে হবে। তবে ১,৭০,০০০/- টাকার মধ্যে ১,৫০,০০০ টাকার ১০% ও বাকী ২০,০০০/- টাকার উপরে ১৫% আয়কর দিতে হবে। সারা বছরের মোট বেতন ও বোনাস ৫ লাখের উপরে হলে ও ৬ লাখ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থের ২০% টাকা ট্যাক্স দিতে হবে। সারা বছরের মোট বেতন ও বোনাস ৬ লাখের উপরে হলে অতিরিক্ত অর্থের ২৫% টাকা ট্যাক্স দিতে হবে। ৩১ জুলাই হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার নিকট থেকে এ আয়কর প্রদানের সনদপত্র নিয়ে নেবেন।

কর কারা দিতে হবে? করযুক্ত আয় কীভাবে বের করতে হবে জেনে নিনঃ নিয়মানুযায়ী যাদের বেসিক ১৬,০০০ টাকা বা তদুর্ধ্ব তাদের সবাইকে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এখানে মনে রাখতে হবে যে রিটার্ন দাখিল করা আর ইনকাম ট্যাক্স বা আয়কর পরিশোধ করা দুটি এক জিনিস নয়। উপরোক্ত বেসিক এর আওতাধীন সবাইকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে এটা সত্য কিন্তু তাদের আয় যদি করসীমা অতিক্রম না করে তাহলে আয়ের উপর আয়কর বা ইনকাম ট্যাক্স দিতে হবে না, শুধুমাত্র রিটার্ন দাখিল করলেই চলবে। আয় যদি করসীমা অতিক্রম করে তাহলেই কেবল আয়কর দিতে হবে। আর এই করযোগ্য আয় কিভাবে বের করবেন সেই বিষয়েই আজকের এই লেখা। চলুন জেনে নেই কিভাবে করযোগ্য আয় বের করতে হয়।