ইউএনও প্রাথমিক স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের বাড়ি থেকে ডেকে আনলেন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় চরপাকুন্দিয়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে হতবাক হয়ে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হাসান। তিনি সেখানে গিয়ে কোন শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে পাননি। পরে মুঠোফোনে ডেকে আনা হয় শিক্ষকদের।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) এই ঘটনা ঘটে। এঘটনায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান জানান, সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তিনি প্রথমে ১০১ নং চরপাকুন্দিয়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান কোনো শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নেই। শূন্য বিদ্যালয়। পরে ১০টার দিকে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমানকে মুঠোফোনে বিদ্যালয়ে আসতে বললে তিনি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরে আলম সিদ্দিকী ও আসাদুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন।

বিদ্যালয়ের এমন চিত্র দেখতে পেয়ে বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির সহকারী শিক্ষক মো. ইনতাজ উদ্দিনকে খবর দিলে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। ইনতাজ উদ্দিন মুঠোফোনে অপর শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে আসতে বললে কিছুক্ষণ পর তারা বিদ্যালয়ে এসে উপস্থিত হন। পরে ৪-৫ জন শিক্ষার্থীও বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্শ্ববর্তী ১০২ নং চরপাকুন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান চারজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজন শিক্ষক উপস্থিত। পাশের কক্ষে ৪-৫ জন শিক্ষার্থী বসে আছে।

এ ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান জানান, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও বেতনভাতা স্থগিতসহ সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, তাদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট পাঠানো হয়েছে।

১০১ নং পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ মিয়া জানান অসুস্থতার জন্যে তার স্কুলে আসতে একটু দেরি হয়েছে।