সমাপনী পরীক্ষায় নকলের ভিডিও ভাইরাল

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহের ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও তদন্ত শুরুর আগেই দুই কার্যদিবস শেষ। তদন্ত কমিটির প্রধান জানিয়েছেন, তদন্ত সুষ্ঠু করতে ছুটির দিন শনিবার থেকে তদন্ত শুরু করা হবে।

তবে এই তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেরকেই এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

এর আগে ‘পিএসসি পরীক্ষায় নকলে মজেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা’ শিরোনামে একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল সরবরাহের একটি ভিডিও প্রচার হয়। এরই মধ্যে ওই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

বিষয়টি নজরে এলে গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সাঘাটা উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবীবকে প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) ইন্সট্রাক্টর সাজু মিয়া ও সাঘাটা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আজিজুল ইসলাম।

সাঘাটা উপজেলার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক গোপাল চন্দ্র জানান, এই কমিটিতে থাকা সদস্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার আজিজুর ইসলামের তত্ত্বাবধায়নে উপজেলার সব কয়টি কেন্দ্রে পিইসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই পরীক্ষায় নকলের ভিডিও ভাইলের পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। সবার দাবি ছিল সুষ্ঠু তদন্তে এই এর একটা আইনগত ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেরকেই এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। এতে তদন্ত কীভাবে সুষ্ঠু হবে সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আজিজুর ইসলাম সাঘাটা উপজেলার প্রাথমিক পরীক্ষার মান ভালো দেখাতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নকল সরবরাহ করতে তিনি নিজেই সবধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাই এই তদন্ত কমিটিতে তাকে রাখা মানেই তদন্ত ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করা।

স্থানীয় যুবক একরামুল হক জানান, তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) ইন্সট্রাক্টর সাজু মিয়া গেল পিইসি পরীক্ষায় সাঘাটা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের ইনচার্জে দায়িত্বে ছিলেন। একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের ইনচার্জ কীভাবে অন্য পরীক্ষার কেন্দ্রের ইনচার্জ ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারে বিরুদ্ধে তদন্ত করবেন। তিনি তো সবসময় প্রাথমিক শিক্ষকদের সঙ্গে থাকেন।

তদন্ত কমিটির দায়িত্বের থাকা প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবীব জানান, শনিবার (৩০ নভেম্বর) থেকে তদন্ত কাজ শুরু হবে। সুষ্ঠুভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত করার জন্যই ছুটির দিন তদন্তের কাজ শুরু করা হবে। রোববারের মধ্যেই তদন্ত রিপার্ট জমা দেয়া হবে।

রোববার (২৪ নভেম্বর) সারাদেশের মতো গাইবান্ধায়ও পিইসির গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সরেজমিন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পিএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষা কেন্দ্রে যেন মাছের বাজার বসেছে। পরীক্ষার্থীদের নকল সরবরাহ করতে শতশত অভিভাবক পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছেন। সময়-সুযোগ পেলেই শিক্ষার্থীদের হাতে নকল ধরিয়ে দিচ্ছেন তারা। নকল চলাকালীন পরীক্ষার পরিদর্শকরা নীরব ভূমিকায় ছিলেন।

অধিকাংশ পরীক্ষার্থী নকল করলেও কেন্দ্রের ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ ও কামালের পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামালেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব শাহিনুর ইসলাম সাজু কোনো পদক্ষেপ নেননি।