প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে আপনার যা না জানলেই নয় !

প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে আপনার যা না জানলেই নয় আমাদের শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । তো আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নেয়া যাক বিষয় গুলো কী কী? প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক ঃ ক. প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য ১টি খ. প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য ১৩ টি গ. প্রথমিক শিক্ষার বিষয় ১২টি ঘ. প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেনি ৬টি ঙ. প্রাথমিক শিক্ষার বিষয় গুচ্ছ ৬০ টি চ. প্রাথমিক শিক্ষার প্রান্তিক যোগ্যতা ২৯ টি ছ. প্রাথমিক শিক্ষার বিষয় ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা ১৮৯ টি জ. প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেনি ভিত্তিক অর্জন উপযোগি যোগ্যতা ১৭৯০টি ঝ. প্রাথমিক শিক্ষার মোট শিখন ফল ৩৩৯০ টি ঞ. প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যপুস্তক মোট ৩৩টি বিষয় ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা ঃ ১. বাংলা বিষয় ১৪ টি ২. ইংরেজি বিষয় ৩১টি ৩. গণিত বিষয় ৩০ টি ৪. বাওবি পরিচয় ১৬টি ৫. প্রাঃবিজ্ঞান বিষয় ১৮টি ৬. ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষাবিষয় ৫ টি ৭. হিন্দু ও নৈতিক শিক্ষা বিষয় ৯টি ৮. খ্রিস্টান ও নৈতিক শিক্ষা বিষয় ১৮ টি ৯. বৌদ্ধ ও নৈতিক শিক্ষা বিষয় ১৫টি ১০. শরীরিক শিক্ষা বিষয় ১০ টি ১১. চারু ও কারু কলা বিষয় ১৩ টি ১২. সঙ্গীত বিষয় ১০ টি প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক, মানবিক, নান্দনিক, আধ্যাত্মিক ও আবেগ-অনুভূতির বিকাশ সাধন এবং তাদের দেশাত্মবোধে, বিজ্ঞানমনস্কতায়, সৃজনশীলতায় ও উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শনে উদ্বুদ্ধ করা। উদ্দেশ্য: শিক্ষার্থীর মনে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’য়ালার প্রতি অটল আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তোলা। যেন এই বিশ্বাস তার চিন্তা ও কর্মে অনুপ্রেরণা যোগায় এবং আধ্যাত্মিক, নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে সহায়তা করে। স্ব স্ব ধর্মের অনুশাসন অনুশীলনের মাধ্যমে শিশুকে নৈতিক ও চারিত্রিক গুণাবলী অর্জনে সহায়তা করা। শিশুর মনে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের প্রতি ভালবাসা, শ্রদ্ধা, সাম্য, সহমর্মিতা ও সহযোগিতাবোধ জাগানো এবং তাকে শান্তিময় পরিবেশের প্রতি আগ্রহী করে তোলা। শিশুর মনে মানবাধিকার, পারস্পরিক সমঝোতা, সহযোগিতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, আন্তর্জাতিকতাবোধ এবং বিশ্বশান্তি ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তোলা। কায়িক শ্রমের প্রতি আগ্রহ ও শ্রমজীবি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগানো এবং অর্থপূর্ণ শ্রমের মাধ্যমে জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে সহায়তা করা। পারিবারিক, সামাজিক ও বিদ্যালয়ের কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশুকে তার নিজের ও অপরের অধিকার, কর্তব্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। শিশুকে পরমত সহিষ্ণুতা ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুশীলনের অভ্যাস গঠনে সহায়তা করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত করার মাধ্যমে শিশুর মনে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটানো, ত্যাগের মনোভাব সৃষ্টি করা এবং দেশগঠনমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করা। জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি লাভে সহায়তা করা এবং এগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলা। শরীরচর্চা ও খেলাধূলার মাধ্যমে শিশুর শারীরিক বিকাশে সহায়তা করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করা। জীবন পরিবেশে কার্যকর ব্যবহারের জন্য এবং শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষার সকল মৌলিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা। শিশুকে গাণিতিক ধারণা ও দক্ষতা এবং যৌক্তিক চিন্তা ও সমস্যার সমাধানের যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করা। বিদেশী ভাষা হিসেবে ইংরেজির প্রাথমিক দক্ষতা অর্জন এবং এ ভাষা ব্যবহারে সহায়তা করা। শিখন-দক্ষতা ও জ্ঞানের প্রতি যথার্থ কৌতুহল সৃষ্টি করে আজীবন শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করা। জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বনে সমস্যা সমাধানের অভ্যাস গঠন এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করা। তথ্যের উত্স, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার, প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ সম্পর্কে ধারণা লাভে সহায়তা করা। শিশুকে পরিবেশ সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে সহায়তা করা এবং পরিবেশের দূষণরোধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এর উন্নয়ন ও সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করা। সঙ্গীত, চারু ও কারুকলা ইত্যাদির মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সৃজনশীল, সৌন্দর্যচেতনা, নান্দনিকবোধ ও বুদ্ধির বিকাশ ও সৃজনশীলতার ও সৌন্দর্য উপভোগে সহায়তা করা। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও সংরক্ষণে যত্নশীল হওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়তা করা। শিক্ষার্থীর মধ্যে ন্যায়বোধ, কর্তব্যবোধ, শিষ্টাচার, মিলেমিশে বাস করার মানসিকতা ইত্যাদি বাঞ্ছিত নৈতিক ও সামাজিক গুণাবলি বিকাশে সহায়তা করা। মানুষের মৌলিক চাহিদা ও পরিবেশের উপর জনসংখ্যার প্রভাব সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে সহায়তা করা। শিক্ষার্থীর সামর্থ্য প্রবণতা ও আগ্রহ অনুসারে তাকে পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তি ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা এবং পরবর্তী স্তরের শিক্ষা লাভের উপযোগী করে গড়ে তোলা। [ ]শিক্ষাক্রমঃ শিক্ষাক্রম হলো শিক্ষা পরিকল্পনা; যা বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃক পরিকল্পিত ও পরিচালিত যাবতীয় শিখন-শেখানো কার্যাবলি। [ ]যোগ্যতা ভিত্তিক শিক্ষাক্রমঃ যে শিক্ষাক্রমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা শেষে প্রত্যেক বিষয় ও শ্রেণির নির্ধারিত অর্জন উপযোগি যোগ্যতাগুলো ক্রমানুসারে অর্জন করার লক্ষ্যে বিন্যস্ত করা হয়েছে তাকে যোগ্যতা ভিত্তিক শিক্ষাক্রম বলে। [ ]শিখনক্রমঃ কোন একটি প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জনের জন্য শ্রেণিভিত্তিক প্রারম্ভিক পর্যায় থেকে চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত ঐ যোগ্যতার বিভাজিত অংশের ক্রমবিন্যাশকে শিখনক্রম বলে। [ ]আবশ্যকীয় শিখনক্রমঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রণীত শিখনক্রম গুলোর মাধ্যমে শিশুরা তাদের জন্য নির্ধারিত যোগ্যতাগুলো অবশ্যই পুরাপুরিভাবে শিখবে বলে আশা করা যায়। এ কারণে এ শিখনক্রমগুলোকে আবশ্যকীয় শিখনক্রম বলে। [ ]যোগ্যতাঃ পঠন পাঠনের মধ্য দিয়ে কোন জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিপূর্ণভাবে আয়ত্ব করার পর শিশু তার বাস্তব জীবনে প্রয়োজনের সময় কাজে লাগাতে পারলে সেই জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির সমষ্টিকে যোগ্যতা বলে। [ ]শ্রে