যেসব ধারা সংস্কারের সুপারিশ এমপিও নীতিমালা সংশোধন কমিটির বৈঠকে

বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো ২০১৮ পর্যালোচনা করে বেশকিছু সুপারিশ উপস্থাপন করেছে নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শুরু হওয়া নীতিমালা সংশোধনে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন কমিটির দুই সদস্য ও নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায়।

সভায় সভাপতিত্ব করছেন কমিটির আহ্বায়ক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ। এছাড়া উপস্থিত আছেন কমিটির সদস্য কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, এনটিআরসিএ, ঢাকা বোর্ডের কর্মকর্তা, কমিটির সদস্য সচিব বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার উপসচিব।

নীতিমালা সংশোধনে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় যেসব ধারা সংস্কারের সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা এডুকেশন বাংলা ডটকমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো :

পৃষ্ঠা-২

ক্রমিক-৩.২

২০১৮ তে আছে স্নাতক (পাস) যুক্ত হবে ‘অনার্স’।

ক্রমিক-৩.৩

সংগীত কলেজ, শরীরচর্চা কলেজ, চারুকলা কলেজ, গার্হ্যস্থ কলেজ ও নৈশকালীন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাসমূহ এ নীতিমালার আওতাভুক্ত করার প্রস্তাব করছি।

 

ক্রমিক-৫.১ যে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হয়েছে অথবা অধিভুক্ত হয়েছে, সে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরিশিষ্ট ‘ক’ অনুযায়ী ভৌগলিক দূরত্ব ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রাপ্যতা প্রয়োগ না করার প্রস্তাব করছি।

ক্রমিক-৫ এর ৩ ও ৭ এক ঘরে লেখা যায়। শেষের অংশে-স্বীকৃতিই প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির “পূর্বশর্ত’’ এবং পর্যায়ক্রমে নীতিমালার ভিত্তিতে কম সময়ের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রস্তাব করছি।

পৃষ্ঠা-৩

৬.১ ক,খ, গ এর উপর প্রশ্ন ঃ

এই নীতিমালা মোতাবেক নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি তবে প্রদত্ত এমপিও এর তালিকায় জনবল হিসেব করা হয়েছে কেন?

 

পৃষ্ঠা-৫

৬.১.১(ক)

প্রতিটি শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা আছে ৫০ জন, প্রস্তাব ৪০ জন।

 

পৃষ্ঠা -৬

৬.১.১(খ)

কাম্যসংখ্যক শিক্ষার্থী নিশ্চিত করণের জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনলাইন পদ্ধতি চালু করার প্রস্তাব করছি।

৬.১.১(গ)

বিভাগ বা বিষয়ের জন্য শিক্ষার্থী সংখ্যা নির্ধারণ করার পূর্বে প্রতিষ্ঠানের জন্য যেমন সর্বনিম্ন শিক্ষার্থী নির্ধারিত আছে একইভাবে সর্বাধিক শিক্ষার্থী নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

 

পৃষ্ঠা -৬

৬.২ কলেজ

ক্রমিক ৭ ও ১১

গণিত বিষয়ে ল্যাব চালু এবং প্রদর্শক ও ল্যাব সহকারী ২ জনের প্রস্তাব করছি।

 

পৃষ্ঠা -৭

৬.২ (খ)

স্নাতক (পাস ও অনার্স) দুটিই বেসরকারি ভাবে চালু থাকায় উভয় পর্যায়েই জনবল কাঠামো সুনির্দিষ্ট করণের প্রস্তাব করছি।

 

পৃষ্ঠা -৮

৬.২.১

এ বিষয় পূর্বে ৬.১.১(গ) এ প্রস্তাব করা হয়েছে।

৭.১ ও ৭.২

মাধ্যমিক কথাটি উল্লেখ থাকা প্রয়োজন।

৭.৩

উচ্চতর স্তরের (উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক) শিক্ষকদের নিয়োগবিধির বাইরে ক্লাস না নেওয়ানোর প্রস্তাব করছি।

 

৮ (ক) শিক্ষার্থী ১৫০ জন এর স্থানে ১১০ জন প্রস্তাব করছি।

৯. পদ সমন্বিতকরণ :

৯.রর প্যাটার্নভুক্ত কোন পদ বা শিক্ষক কোটা খালি হলে নূন্যতম সময় না দিয়ে তা সমন্বয় বা বিলুপ্ত না করার প্রস্তাব করছি।

স্নাতক (পাস ও অনার্স) কলেজ সমূহে তৃতীয় পদে ও বিষয়ভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকদের/ কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির প্রস্তাব করছি।

 

পৃষ্ঠা -৯

৯.

মহিলা কোটা যথাযথ ভবে পূরণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে মহিলা সেল প্রনয়ণের প্রস্তাব করছি।

১০. আবশ্যিক হিসাবে ঘোষিত আইসিটি বিষয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিও নিশ্চিত করণের প্রস্তাব করছি।

১১.২ নন এমপিও প্রতিষ্ঠানের এমপিও যখনই হোকনা কেন বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রাপ্ত হলে যোগদানের তারিখ থেকেই অভিজ্ঞতা গণনার প্রস্তাব করছি। পরিশিষ্ট (ঘ) অনুযায়ী অভিজ্ঞতা না থাকলে বেতন একধাপ নিচে দেওয়া অমানবিক, কারণ তিনি ঐ পদের কাজ যথাযথ ভাবেই চালিয়েছেন।

১১.৪ পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৫ঃ২ অনুপাত মোটেই যৌক্তিক বলে মনে করি না। প্রভাষকগণ যোগদানের পরে ৮ (আট) বছর পূর্ণ করলেই তাঁকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পরবর্তী পদে (সহকারী অধ্যাপক) উন্নিত করার প্রস্তাব করছি এবং পরবর্তী ৪ (চার) বছরে পরবর্তী স্তরে পদায়ন চাই। পদায়নের সাথে সাথে তাঁকে বিদ্যমান গ্রেডেও উন্নিত করার প্রস্তাব করছি। সমস্ত চাকুরী জীবনে ২টির স্থলে ৩টি টাইম স্কেল প্রস্তাব করছি।

১১.৬ শারীরিক সক্ষমতায় প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করছি।

পৃষ্ঠা -১০

১১.১৪ ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য (হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ) শিক্ষার্থীর সংখ্যা যথাক্রমে ২০, ১০, ০৭ জন থাকলে স্ব স্ব ধর্মীয় একজন ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব করছি।

১১.১৫ প্রধান পদটি অধ্যক্ষ নামকরণ করা এবং কর্মরত প্রধান যদি যোগ্যতায় ও অভিজ্ঞতায় পূর্ণ হন তাঁকে ঐ পদে উন্নীতকরণের প্রস্তাব করছি।

পৃষ্ঠা -১০

১৩- জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা নির্ধারণ : বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট পদে যোগদানের তারিখ হতে অভিজ্ঞতা গণনা করার প্রস্তাব করছি। এমপিও ভুক্তির তারিখ নয়।

পৃষ্ঠা -১১

১৪ গ্রেডিং – কোন সূচকেই ‘০’ (শূন্য) মান না রাখার প্রস্তাব করছি।

 স্বীকৃতির তারিখ – ২৫ (প্রতি ২ (দুই) বছরের জন্য ৫ (পাঁচ), ১০ (দশ) ততোধিক হলে ২৫ (পঁচিশ))।

 শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ (কাম্য সংখ্যার ক্ষেত্রে ১৫, কাম্য সংখ্যার পরবর্তী প্রতি ১০% বৃদ্ধির জন্য ৫)

 পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ (কাম্য সংখ্যার ক্ষেত্রে ১৫, কাম্য সংখ্যার পরবর্তী প্রতি ১০ জনের জন্য ৫)

 উত্তীর্ণের ২৫ (কাম্য হার অর্জনের ক্ষেত্রে ১৫, পরবর্তী প্রতি ১০% এর জন্য ৫)

 

প্রস্তাবিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরণ অনুযায়ী সর্বনিম্ন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৫ নম্বর ধরে কাম্য শিক্ষার্থী পর্যন্ত ১৫ নম্বর ও সর্বনিম্ন পরীক্ষার্থীর জন্য ৫ নম্বর ধরে কাংখিত শিক্ষার্থী পর্যন্ত ১৫ নম্বর, ফলাফলের "১" /"৩" "%" এর জন্য ৫ নম্বর ধরে কাংখিত লক্ষ্যমাত্রা পর্যন্ত ১৫ নম্বর বিবেচনা করে শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী ও ফলাফলের পরবর্তী ১০% বৃদ্ধিতে ২৫ নম্বর পর্যন্ত প্রাপ্য হবে।