যা বললেন মাউশি পরিচালক : সরকারিকরণে

প্রায় তিন বছর আগে জাতীয়করণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পায় তিন শতাধিক কলেজ। প্রায় দেড় বছর আগে জাতীয়করণের গেজেট জারি করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত শিক্ষকদের চাকরি সরকারীকরণ করা সম্ভব হয়নি। শুধু একই কাগজ বারবার যাচাই-বাছাইয়ে সময় পার করা হচ্ছে, এমনকি এখন পর্যন্ত কোনো ফাইলই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পদ সৃজনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। ফলে কাজের ধীরগতিতে জাতীয়করণের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে।

এসব ব্যাপারে মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘মাউশি অধিদপ্তরের কাজ বলতে গেলে শেষের পথে। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে ফাইলগুলো যাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। একসঙ্গে অনেক কলেজের হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর কাগজপত্র দেখতে হচ্ছে। তবে আমরা খুবই দ্রুততার সঙ্গে কাজগুলো করার চেষ্টা করছি।’

ইতিমধ্যে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা, নওগাঁর রানীনগর উপজেলাসহ একাধিক কলেজের শিক্ষক কাগজপত্র না দিতে পারায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাউশি অধিদপ্তরের পরিচালকের (কলেজ ও প্রশাসন) নেতৃত্বে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছেন কলেজ উইংয়ের কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, জাতীয়করণের গেজেট হওয়া ৩০২ কলেজের মধ্যে ২২০টির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ৭০টি কলেজের যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফাইল রাখার জায়গা না থাকায় তা পাঠানো যাচ্ছে না। মন্ত্রণালয় এখন শিক্ষকদের ডেকে যাচাই-বাছাই করছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ২০টি কলেজের শিক্ষকদের কাগজ যাচাই শেষ হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষ হতেই আরো কয়েক বছর সময় লাগবে। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এসব কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মাত্র একজন উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। সেখানেও দীর্ঘদিন সময় লেগে যাবে।

সূত্র জানায়, জাতীয়করণকৃত কলেজে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। এর মধ্যে শিক্ষকের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৫৬ এবং কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় চার হাজার। জাতীয়করণের সম্মতির পরই কলেজগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এর পর থেকে অনেকেই অবসরে যাওয়ায় শিক্ষক সংকটও প্রকট হচ্ছে।

সকশিস সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এক কাগজ কেন বারবার যাচাই করতে হবে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এভাবে চলতে থাকলে চার-পাঁচ বছরেও আত্তীকরণ শেষ হবে না। তবে এর মধ্যে আমাদের অর্ধেক শিক্ষক-কর্মচারীই অবসরে চলে যাবেন। তাই দ্রুত আত্তীকরণের দাবিতে আগামী বছরের শুরু থেকেই আমরা মানববন্ধন, কলেজে কলেজে লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।’

জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের সংগঠন সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতি (সকশিস) গত ১৫ ডিসেম্বর দ্রুত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি সরকারীকরণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের পদ সৃজনের জন্য মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কিন্তু মাউশির কর্মকর্তাদের নানা কূটকৌশল, বাহানা ও দীর্ঘসূত্রতার জন্য আত্তীকরণ প্রক্রিয়ার কাজে ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয়করণের সম্মতির পর গত তিন বছরে প্রায় তিন হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে চলে গেছেন।