যেন দক্ষ অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর যেন হয়ে পড়েছে দক্ষ অভিভাবকহীন। তাদের দূরদর্শী চিন্তাভাবনার কিছু নিয়ম নীতি যেন পিছিয়ে ফেলেছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে।

তাদের সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নে রিট কারী একদল বা একজন শিক্ষক হয়ে যাচ্ছেন বাঁধা হয়ে। রিটই যেন একমাত্র সমাধানের অভিভাবক হয়ে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের। যে নীতিমালা প্রণয়নের ফলে রিট করে সেই নীতিমালাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে জয়ের মালা পড়িয়ে খিল খিল করে হেসে চলছে রিট কারী আর তখনই নীতিমালা প্রণয়নকারীকে যেমন বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক গুণ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা।

কবে সেই ২০১০সাল! ১০ বছর পর আজো পদোন্নতির মুখ দেখেনি সহকারী শিক্ষক। কারণ মামলা! নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে না, কারণ মামলা। নিয়োগ দেওয়ার পর রেখে দেওয়া কিছু প্রতিযোগিতায় টিকে না থাকা পুল নামে থাকা আবেদনকারী রিট করে নিয়ে নিল চাকুরী।বঞ্চিত হলো মেধাবী কতো মুখ।সুযোগও পেলনা আবেদন করার। নব জাতীয়করণ শিক্ষকদের নিয়ে নতুন করে কিছু বলার ইচ্ছে নাই। কেননা ওনারা যা চেয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছেন, তাতেও তাদের তৃপ্তির ঢেঁকুর পড়েনি। মামলা নিয়ে একের পর এক ঝামেলা পাকিয়েছেন। রেজিস্ট্রার স্কুলে যে কম মেধাবী বেকারকে ইচ্ছে মত কাউকে নিয়োগ দিতে না পারে কমিটি, সেই জন্য লিখিত একটি পরীক্ষা নিয়ে তাদের একটি প্যানেল দিল অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়।

সরকারী ঘোষণা হওয়ায় সরকারী হিসেবে তাদের নিয়োগ নিয়ে নিল রিট করে। ইতিহাসে নজির নাই জাতীয়করণ হওয়ার পর সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদ বহাল থাকে,কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাসেও ছিলনা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২৬ হাজার বিদ্যালয়ের জাতীয়করণে তাদের বহাল রাখল। যা ছিলনা বঙ্গবন্ধু দ্বারা ঘোষিত ৩৭ হাজার বিদ্যালয়েরও। বঞ্চিত হলো প্রতিযোগিতা করে যারা চাকুরী নিল। আবেগকে প্রশ্রয় দিয়ে অন্য কোন ডিপার্টমেন্টে ক্ষতি না হলে শিক্ষাক্ষেত্রে হবেই,এটি অস্বীকার করার নেই। আর তারই প্রমাণ দিলেন মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, বললেন আন্তরিকা নিয়ে।তুলনায় জরালেন ব্র্যাকের শিক্ষকের সাথে।

আমার মতো হাজার হাজার শিক্ষক আজও ২০ বছর চাকুরী করে তাদের কারণে পদোন্নতি না পেয়ে সেই সব প্রধানের অধীনে সহকারী হয়ে থাকতে হচ্ছে যা বাধ্য হচ্ছে। অবশেষে চলতি দায়িত্ব নামে চলা শুরু হলে কবে যে পদোন্নতির মালা পেয়ে চলা শেষ হবে তা কে জানে? এই দপ্তরের অতি অল্পসময় মানেই তো বছর কয়েক! নতুন নিয়োগে ১৮ হাজার মেধাবী যুবক শিক্ষক স্বপ্ন দেখলেও ঘুম ভাঙ্গার আগেই আবারও ডামাডোল বাজল রিটের।

কিন্ত কেন? নিশ্চয়ই কারো মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলেই উচ্চ আদালতে রিট খারিজ না হয়ে গৃহীত হচ্ছে। তারপর মামলা তো দোষের নয়,তবে কেন তা বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে? এই তো গত রাতের কথা, বলছে রিমা,নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কথা। স্যার আমার বিদ্যালয়ের ৭ শিক্ষকের জায়গায় আছি সারে এক জোড়া,অর্থাৎ ৩ জন।

এমনি করে ৬৫ হাজার স্কুলের কয়টি স্কুলের বরাত দিয়ে কর্তৃপক্ষ বলবেন শিক্ষকে আছে ভরপুর! সুতরাং কর্তৃপক্ষ মহোদয়ের নিকট বিনীত নিবেদন এই যে, আপনাদের সিদ্ধান্তগুলো হোক আইন দ্বারা সিদ্ধ,যেন আইনের জাতাঁকলে বিড়ম্বনায় পড়তে না হয়, আর তা বাস্তবায়ন করতে অপেক্ষায় যেন না থাকতে হয় দীর্ঘ সময়।