গণশিক্ষা সচিব এবার যা বললেন : উত্তীর্ণ ১৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ১৮ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি উত্তীর্ণদের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু নারী কোটার নীতিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগে করা এক রিটের ওপর গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের জারি করা রুলে দেখা দিয়েছে সংশয়। রুলে ১০ দিনের মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষার ঘোষিত চূড়ান্ত ফল কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত রুলের জবাব দেয়া না হলেও অন্যতম বিবাদী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৩ অনুযায়ী নারী কোটা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। তবে কোটা পূরণের পর নির্বাচনযোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় মেধা তালিকা থেকে শূন্যপদগুলো পূরণ করা হয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে জটিলতার কিছু নেই।

প্রার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে একই কথা বলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন। তিনি বলেছেন, রিটকৃত দুই জেলা ছাড়া অন্য কোনো জেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে।

গত ২৪ ডিসেম্বর সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০১৮ এর ফল প্রকাশের পর চূড়ান্ত ফলে নারী কোটা যথাযথভাবে পূরণ করা হয়নি দাবি করে বরগুনা ও নীলফামারী জেলার ২১ জন নারী প্রার্থী উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন। এই রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার রুল দেয় উচ্চ আদালত। আদালত রুলে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩ লঙ্ঘন করে ঘোষিত এই ফল কেন আইনগত কর্র্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং একই সঙ্গে ঘোষিত ফলাফল বাতিল করে ওই বিধিমালা অনুসরণ করে নতুন ফলাফল কেন ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চায়।

১০ দিনের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এর পরদিন দুই জেলা নীলফামারী ও বরগুনার ঘোষিত ফলাফল ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার আদেশ দেয় আদালত। উচ্চ আদালতের এই রুলের পর প্রার্থী ও সচেতনমহলে সমালোচনা হওয়ায় গতকাল অধিদপ্তর ‘কোটা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে’ দাবি করে ব্যাখ্যা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ফলাফলে সরকারি কোটাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অপপ্রচার করা হচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৩ বিধি ৭(ক) অনুযায়ী কোনো একটি উপজেলার মোট পদের ৬০ শতাংশ মহিলা, ২০ শতাংশ পোষ্য ও ২০ শতাংশ পুরুষ কোটা নির্ধারিত থাকে। আবার বিধি ৭(খ) অনুযায়ী মহিলা, পোষ্য ও পুরুষ এই তিন ধরনের প্রতিটি কোটা পূরণের ক্ষেত্রে আবার ৪ ধরনের কোটা অনুসরণ করা হয়। এগুলো হলো এতিমখানা নিবাসী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ৩০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ৫ শতাংশ এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্য ১০ শতাংশ। মহিলা, পোষ্য ও পুরুষ কোটায় এ চার ধরনের কোটা অনুসরণের পর প্রতিটিতে অবশিষ্ট ৪৫ শতাংশ মেধা কোটা থেকে পূরণ করার নিয়ম রয়েছে। কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ৫ এপ্রিল জারি হওয়া স্মারক ও শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালার বিধি ৭(১)(খ) অনুযায়ী নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সাধারণ মেধাক্রম থেকে পূরণ করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়েছে, এবারের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিভিন্ন শ্রেণি কোটায় নির্বাচনযোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় শূন্যপদসমূহ সাধারণ প্রার্থীদের দ্বারা পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে মেধাক্রমানুসারে পূরণ করা হয়েছে। এ পক্রিয়ায় বিধিসম্মতভাবেই কিছু উপজেলায় নির্বাচিত পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা নির্বাচিত মহিলা প্রার্থীর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছে।

অধিদপ্তরের দাবি, প্রকাশিত চূড়ান্ত এই ফল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরি সহায়তায় উন্নত সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মানবীয় হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ ছিল না। ব্যবহৃত সফটওয়্যারে সরকারি কোটাবিধি সঠিক ও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে বিধায় প্রত্যেক প্রার্থী বিধি অনুযায়ী মূল্যায়িত হয়েছেন। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, রিট পিটিশন করার পর এখন আমাদের কী করণীয় তা বসে ঠিক করা হবে। রুলের জবাব দেওয়া হবে। যে উপজেলায় ফল নিয়ে রিট পিটিশন হয়েছে শুধু সেসব জেলার নিয়োগ ছাড়া অন্য কোথাও নিয়োগে বাধা আছে বলে মনে করি না।

গত বছর ৩০ জুলাই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকার। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সারা দেশ থেকে ২৪ লাখ প্রার্থী চাকরির জন্য আবেদন করেন। চার ধাপে লিখিত পরীক্ষা হয়। সেপ্টেম্বরে ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৫৫ হাজার ২৯৫ জন পাস করেন। এই পরীক্ষায় ৬১ জেলায় ১৮ হাজার ১৪৭ জন নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।