প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ : প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার দায়িত্ব নিতে ছাত্রলীগকে

শিক্ষার প্রধান মেরুদণ্ড ধরা হয় প্রাথমিক শিক্ষাকে। এজন্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এদিকে পুরোপুরি প্রাথমিক স্তরের উপস্থিতি শতভাগ না হলেও আওয়ামী লীগের ক্ষমতায়নে শিশুদের ঝড়ে পরা রোধ অনেকটাই কমেছে। প্রাথমিকে শিশুদের পাঠদানে আনন্দ প্রদান করার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে সরকার।

এবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ দলের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রাথমিক পর্যায়ের অর্থাৎ সদ্য শুরু হওয়া ক্ষুদে শিশুদের ঝড়ে পড়া রোধে দায়িত্ব নিতে। আর তিনি এ দায়িত্ব দিয়েছেন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগকে।

এ কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি ও আদর্শ মেনে চলতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে স্কুল থেকে শিশুরা ঝড়ে পড়ছে। এসব সমাধানে তিনি ছাত্রলীগকে এগিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। ঝরে পড়া শিশুদের দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার কথা বলেছেন সরকার প্রধান।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে। ছাত্রলীগকে শিক্ষার প্রসারে সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্কুল থেকে ছিটকে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। সবাই যেন পড়াশোনা করতে পারে, সেজন্য সুযোগ সৃষ্টি করে সমস্যার সমাধান করতে হবে। এসব কাজে যেকোনো পর্যায়ে ছাত্রলীগকে ভূমিকা রাখতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ যদি কোনো লক্ষ্য ঠিক রেখে সততার সঙ্গে, দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে, তাহলে যে কোনো অসাধ্য সাধন করা যায়। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। দেশের মানুষের প্রতি কর্তব্য আছে। একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এটা কর্তব্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু অনেক বড়ো স্বপ্ন, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ছাত্রলীগ গঠন করেন। এই ছাত্রলীগের সঠিক ইতিহাস জাতির কাছে তুলে ধরতে হবে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বসহ সব গণতান্ত্রিক অর্জনে ছাত্রলীগের ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের সঠিক পথে চলতে হবে।’

শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রলীগের ‘লিডারশিপ ওরিয়েন্টেশন’ প্রোগ্রামে মোবাইল ফোনে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমানের মোবাইলে ছাত্রলীগের নেতাদের উদ্দেশে ১০ মিনিটের বেশি কথা বলেন শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রলীগের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভালোভাবে লেখাপড়া করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘ভালো আচরণের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শ বুকে ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগকে সুশিক্ষা ও মেধার আলোয় আলোকিত হতে হবে।’

মুজিববর্ষ উদযাপনের বিষয়েও ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন। ছাত্রলীগ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও জাতির পিতার অনুপস্থিতিতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ছাত্রলীগকে কীভাবে পরিচালনা করেছেন তা স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ছাত্রলীগের মাধ্যমেই সব তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং জেলখানায় তিনি জাতির পিতার কাছে তা পৌঁছে দিতেন।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগ নেতাদের বঙ্গবন্ধুর লেখা দুটি বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’সহ গোয়েন্দা রিপোর্টের সব বই পড়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দেশ-দশের কাজ করতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরার এবং বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের ইতিহাস জানার কোন বিকল্প নেই।’