প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান দপ্তরি দিয়ে চলছে !

নিয়ামতপুর উপজেলার ভাদরণ্ড লক্ষ্মীতাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি ও শিশুশিক্ষার্থী দিয়ে চলছে পড়ানোর কাজ। এ নিয়ে অভিভাবক মহলে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ।

দিনের পর দিনে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে এমন অভিযোগ অভিভাবকদের। ফলে ওই স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে স্কুলে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ৩১০ জন। অনুমোদিত শিক্ষক পদের সংখ্যা প্রধান শিক্ষকসহ ৮ জন। অথচ কোজ করছেন মাত্র ৩ জন শিক্ষক। এদের একজন দাপ্তরিক কাজে উপজেলা সদরে গেলে বা ছুটিতে থাকলে এতগুলো ছাত্রছাত্রীকে ৪টি শ্রেণিকক্ষে ধরে রাখতে হয় মাত্র দুজন শিক্ষককে।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক বলেছেন, শিক্ষক সংকটে তার স্কুলে ক্লাস নিতে খুব সমস্যা হচ্ছে। প্রথম শিফটে একই সঙ্গে চলে শিশু, প্রথম, দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস। এ কারণেই দুজন শিক্ষকের একজনকে এক শ্রেণি থেকে আরেক শ্রেণিতে ছুটে বেড়াতে হয় সবসময়। এজন্য মাঝে মধ্যে বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীদের দিয়ে ক্লাস সামলাতে হয়।

প্রধান শিক্ষক জানান, বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে একাধিকবার জানানো হলেও শিক্ষক সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ। গত ১২ জানুয়ারি সরেজমিন উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ভাদরণ্ড লক্ষ্মীতাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনেম শাহরিয়ার তার নিজের ক্লাসে অংক পড়াচ্ছে। ঘড়িতে তখন বেলা ৯টা ৫০ মিনিট। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াচ্ছেন সহকারী শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন। প্রথম শ্রেণিতে সহকারী শিক্ষক মেরীনা সিদ্দিকা এবং প্রাক-প্রাথমিকে পড়াচ্ছেন স্কুলোর দপ্তরি রুজবেল আহমেদ।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, স্কুলে শিক্ষক সংকট রয়েছে। শিক্ষক সংকট নিরসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।