বছরে নৈমিত্তিক ছুটি না নেয়ায় ৩ শিক্ষক পুরস্কৃত

বছরে নৈমিত্তিকএক দিনও ছুটি না নেয়ায় পুরস্কৃত হয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক। এদের দুইজনই গণিতের শিক্ষক, বাকি একজন বাংলা পড়ান।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হলদিয়া সরকারি হাইস্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন নিবেদিতপ্রাণ ওই শিক্ষকগণ। তারা স্কুল কামাই করার কথা কল্পনাও করতে পারেন না। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছেও সমান জনপ্রিয় এই তিন শিক্ষককে পুরস্কৃত করলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনুপম বিশ্বাস জানান, সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের সম্পর্কে অনেক সময় ছুটি নেওয়া নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা হয়। কিন্তু ওই তিন শিক্ষক গত বছর একদিনও ছুটি না নিয়ে একটা ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। তাদের সেই অবদানের স্বীকৃতি দিতেই এই পুরস্কার।

বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন হলদিয়ার মহকুমার প্রধান প্রশাসক। হলদিয়ার উপ-পুরপ্রধান সুধাংশু মণ্ডল ও পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল জয়ন্তী রায় স্কুলের এই ভূমিকার প্রশংসা করেন বলেন,‘এই শিক্ষকেরা সমাজের উজ্জ্বল ছবি।’

ওই তিন শিক্ষকের একজন হলেন গণিতের শিক্ষক কমলকান্তি বেরার। তিনি বলেন, ‘স্কুলে না এসে থাকতে পারি না। তাই পরিকল্পনা করেই অন্য কাজের সময় বের করে নিই। এমনকি অসুস্থ অবস্থাতেও স্কুলে এসেছি।’

গণিতের আর এক শিক্ষক শুভঙ্কর নাথ বলেন,‘এই ধরনের মানসিকতা আমাদের সকলেরই আছে। গণিতের মতো বিষয় পড়াই। আমরা নিয়মিত না এলে ছাত্রছাত্রীরা অসুবিধায় পড়বে। তাই ছুটি নিই না।’

আর পুরস্কার পওয়া বাংলার শিক্ষক গৌতম গুহ বলেন, ‘জ্বর নিয়েও স্কুলে এসেছি। আসলে স্কুলে না এসে থাকা যায় না। শুধু ছুটি আছে বলেই নিতে হবে, এর কোনও অর্থ খুঁজে পাই না।’

টি না নেওয়ায় পারিবারিক কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়নি? তিন শিক্ষকের মত,‘শিক্ষকতার সঙ্গে অন্য পেশার ফারাক আছে। এখানে দায়িত্ববোধ ও চেতনা দিয়েও পেশাগত কাজ করতে হয়।’

গত বছর ছুটি না নেয়ায় পুরস্কৃত হয়েছিলেন একই বিদ্যালয়ের ভূগোলের শিক্ষক সমীরণ মণ্ডল। তিনি ২০১৯ সালে মাত্র একদিন ছুটি নিয়েছেন। আর এ কারণেই এবার সেরা শিক্ষককের পুরস্কারটি তার হাতছাড়া হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘কলেজ সার্ভিস পরীক্ষার ইন্টারভিউ থাকায় গতবছর মাত্র একদিন ছুটি নিয়েছি। তা ছাড়া আর কোনও কিছুই স্কুলে আসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।’

শিক্ষকদের এমন সম্মানে খুশি শিক্ষার্থীরাও। তারা জানায়, ওই তিন শিক্ষক তাদের কাছে আদর্শ। স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র সোহম দত্ত এবছর ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’পুরস্কার পেয়েছে। তার কথায়, ‘স্যরদের এই সৃঙ্খলা আমাদের কর্মজীবনে সিনসিয়ার হতে উদ্বুদ্ধ করবে।’

ভারতের এই তিন শিক্ষকদের কাছ থেকে দেশের তথাকথিত ফাঁকিবাজ শিক্ষকরা কিন্তু অনেক কিছু শিখতে পারেন। কেননা শিক্ষকতা একটি মহান পেশা এবং এখানে দায়িত্বে অবহেলার কোনও সুযোগ নেই।