বেতন কাঠামো ও সময়সূচিতে পরিবর্তন আসলে কিন্ডারগার্টেন মার খাবে প্রাথমিকের কাছে..

কিন্ডারগার্টেনে মার খাচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পৌর শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে বা কাছাকাছি ভুঁইফোড় অসংখ্য কিন্ডারগার্টেন গড়ে উঠেছে। তাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। একদিকে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বাগিয়ে নিয়ে কিন্ডারগার্টেনে চলছে রমরমা বাণিজ্য। আবার কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখিয়ে সরকারের দেওয়া উপবৃত্তি পাইয়ে দেওয়ারও পাঁয়তারা চলে।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষার সরকার নির্ধারিত সিলেবাস থাকলেও কিন্ডারগার্টেনগুলোতে সুনির্দিষ্ট সিলেবাস নেই। একেক কিন্ডারগার্টেনে একেক ধরনের বই পড়ানো হয়। বইগুলো নির্ভুল ও মানসম্পন্ন কি না—এ ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ নেই। স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না বলে মনে করা হয়।

জানা গেছে, উপজেলার পাঁচুয়া রাবেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী দুই শতাধিক। কিন্তু সম্প্রতি ৩০০ গজের মধ্যে কলকাকলী বিদ্যানিকেতন নামে একটি কিন্ডারগার্টেন হওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে ১৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী এক দিন উপস্থিত হলে দুই দিন অনুপস্থিত থাকে। প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপস্থিতির প্রবণতা বেশি। অর্থাৎ মা-বাবাকে প্রলুব্ধ করে কিন্ডারগার্টেনগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের বাগিয়ে নিচ্ছে।

পাশের ধোপাঘাট উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধা কিলোমিটারের মধ্যে কিন্ডারগার্টেন থাকায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম। চলতি বছর বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণিতে মাত্র ১৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। একই অবস্থা উপজেলার পাতলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও।

উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৩৮টি আর কিন্ডারগার্টেন রয়েছে প্রায় ৭০টি। বেশির ভাগ কিন্ডারগার্টেন গড়ে উঠেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে বা কাছাকাছি দূরত্বে। ফলে প্রাথমিকের বহু অনুপস্থিত শিক্ষার্থী কিন্ডারগার্টেনে পড়ালেখা করে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সালমা আক্তার বলেন, বিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে।

সুত্রঃ কালের কন্ঠ