প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে স্থগিতাদেশ বাতিল হচ্ছে!

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে সারাদেশে প্রায় বেশিরভাগ জেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। যার ফলে উত্তীর্ণ শিক্ষকরা চিন্তায় আছেন কবে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হেবে। এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাইকোর্টের রিটের জবাব দিয়ে চলতি মাসের ১৬ তারিখ তাদের পদায়ন করা হবে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আহমেদ হেলাল নামে এক ব্যক্তির প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের স্থগিতাদেশ নিয়ে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে বৃহস্পতিবার ১৭ জেলার স্থগিত আদেশ বাতিল করা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুুলে ধরা হলো- আমরা তিনজন প্রাইমারী শিক্ষা অধিদপ্তরে গিয়াছিলাম। মহাপরিচালকসহ অধিকাংশ কর্মকর্তাগণ এসব রিটের জন্য ব্যস্ত। তারা চাচ্ছে যেকোন মূল্য ১৬ তারিখে যোগদান করাবে। আগামী বৃহস্পতিবার ১৭ জেলার স্থগিতাদেশ বাতিল হবে (অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে)। নওগাঁর AL আজই পাবেন। সর্বশেষ রিটের জেলাগুলো ২৬/০১/২০২০ তারিখে রিট হয় কিন্তু পরে হাইকোর্ট রায় দেয়। যার কারণে অনেক জেলা AL পেলেও হাইকোর্ট সেসব জেলার নিয়োগপত্রের উপরে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি, কারণ ২৬ তারিখের পরে সেসব জেলায় নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। আমি যেটা বুঝলাম অধিদপ্তর ১৬ তারিখকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিছে। আমাদের অযথা চিন্তা করতে নিষেধ করছে। আর যারা AL ১৬ তারিখে আগে পাবে না তারা ১৬ তারিখে প্রত্যেক জেলা শিক্ষা অফিস থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন এরকম একটা আদেশ আসতে পারে।

(উপরোক্ত তথ্যের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি)

এদিকে জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৩ এর ৭ ধারা অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদে ৬০ শতাংশ মহিলা, ২০ শতাংশ পৌষ্য এবং বাকি ২০ শতাংশ সাধারণ প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে হবে। কিন্তু ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঘোষিত ফলাফলে সেটা অনুসরণ করা হয়নি। তাই ওই ফলাফলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে ওই বছরের ১-৩০ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশ থেকে ২৪ লাখ পাঁচজন প্রার্থী আবেদন করেন। প্রথম ধাপে ২৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মে, তৃতীয় ধাপে ২১ জুন এবং চতুর্থ ধাপে ২৮ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সেপ্টেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় ৫৫ হাজার ২৯৫ জন পাস করেন। গত ৬ অক্টোবর থেকে নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। মাসব্যাপী সারাদেশের সব জেলায় মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। এ পরীক্ষায় ৬১ জেলায় ১৮ হাজার ১৪৭ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।