প্রাথমিকের যে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী বছরে

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগামী বছর থেকে প্রতিটি ক্লাস্টারে একটি করে প্রাথমিক একটি করে স্কুলে পাইলটিং করবো। বিদেশ থেকে ৫৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার অর্থ নিয়ে এসেছি। টাকা দিচ্ছে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কোনও অর্থ ব্যয় হবে না।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি ২০২১ সাল থেকে দুই বছর করা হচ্ছে। এতে অর্থায়ন করছে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন। তবে প্রথমে পাইলট প্রকল্প হিসেবেই নেয়া হচ্ছে এটি। পর্যায়ক্রমে দুই বছরের জন্য সারাদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক পুরোপুরি চালু হবে। 

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর যেসব দেশে প্রি-প্রাইমারি দুই বছর সেসব দেশে শিক্ষার মান উন্নত। তাই আমরা প্রাক-প্রাথমিক দুই বছরের করবো। প্রধানমন্ত্রী সেটি অনুমোদন দিয়েছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল হোসেন নিজ উদ্যোগে বিদেশি অর্থায়নে দুই বছরের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি করার পরিকল্পনা নেয়। গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের অর্থ সহায়তা নিয়ে দুই বছরের প্রাক-প্রাথমিক পাইলটিং করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। আগামী বছর দেশের প্রতিটি ক্লাস্টারে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই পাইলটিং শুরু হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি শ্রেণি হিসেবে প্রথম এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শুরু করা হয় ব্র্যাকের মাধ্যমে। এই কার্যক্রম ফলপ্রসূ হলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১২ সালে সরকারি প্রাথমিক এক বছরের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ভর্তি শুরু হয়। তবে নিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতে থাকে এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি। এরপর ২০১৬ সাল থেকে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভর্তি করা হয়। এতে যুক্ত হয় ২৬ হাজার ১৪৯টি নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি হওয়ার পর।

এরপর প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে দুই বছরের জন্য প্রাক-প্রাথমিক করার উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়। ছয় বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির জন্য প্রস্তুত করার লক্ষে শিশুদের ৪ বছর বয়সে প্রাক-প্রাথমিকে ভর্তির উদ্যোগ নেয়া হয়।