প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি ও নিয়োগবিধি নিয়ে ধুম্রজাল

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি ও নিয়োগবিধি  নিয়ে ধুম্রজাল

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ১৯৮৩ এর অধীন নিয়োগ পাওয়া সাহকারী শিক্ষক যারা ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ খ্রিঃ যোগদান করেছিলেন তাদের অনেকেই এখনও প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নাতির অপেক্ষাধীন প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বে পদায়িত হয়েছেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ১৯৯১ এর অধীনে নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষক যারা ১৯৯৩ থেকে ২০১৩ খ্রিঃ পযর্ন্ত বিপুল সংখ্যক যোগদান করেছেন। সেই বিধিমালা্য় পুরুষ প্রার্থীর ক্ষেত্রে স্নাতক পাশ অথবা সি ইন এড সহ এইচ এস সি পাশ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের যে কোন একটি তে দ্বিতীয় বিভাগ  এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে নূন্যতম ২য় বিভাগে এস এস সি / সমমান যোগ্যতা নির্ধারিত ছিল।

উক্ত বিধিমালায় সহকারী  শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষখ পদে পদোন্নতি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সাত বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার বিষয়টিই প্রধানতম শর্ত ছিল।

২০০৯ খ্রিঃ থেকে আইনি জটিলতায় পদোন্নতি বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় পার করে ১৭ মে ২০১৭ খ্রিঃ থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রানালয় পদোন্নতির পূর্ব ধাপ থেকে চলতি দায়িত্বের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে প্রায় ১৮০০ ০ জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক  পদায়িত হয়ে চুড়ান্ত পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন।

সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩ পুরুষ প্রার্থীর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিভাগ সহ স্নাতক এবং মহিলার ক্ষেত্রে এইচ এস সি বা সমমান ( যে কোন একটিতে দ্বিতীয় বিভাগ ) শর্তারোপের  মাধ্যমে ২০১৮ খ্রিঃ পযর্ন্ত শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন।

বিগত ৮/১০ বছর সময়ের  মধ্যে অন্যান্য সময়ের চেয়ে অপেক্ষাকৃত যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ায় তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক শিক্ষক গত ৩/৪ বছর যাবত পদোন্নাতির ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি অনুসরন না করে পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদান এবং বিভিন্ন বিধিমালার শর্তকে প্রাধান্য না দিয়ে স্নাতক ২য় বিভাগ বাধ্যতামুলক রেখে পদোন্নতির সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব লেখা লেখিতে ব্রত রয়েছেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ নামে ৪ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিঃ নুতন বিধিমালা জারী করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রানালয়। বর্তমান বিধিমালায় পুরুষ ও মহিলা উভয় প্রার্থীর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিভাগে স্নাতক পাস বাধ্যতামূলক শর্তারোপকরন করা হলেও এ বিধির অধীনে কোন প্রকার নিয়োগ কার‌্যক্রম গৃহিত হয়নি।

গত ৩০ শে সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিঃতারিখ  প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কতৃক জ্যৈষ্ঠতা  তালিকা প্রেরনের ক্ষেত্রে ২০১৯  নিয়োগ বিধিমালা মোতাবেক গ্রেডেশন তালিকা প্রেরণের আদেশ করেছেন। তাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকরা সিনিয়র সহকারি শিক্ষকদের মধ্যে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া কিংবা হতাশার কোন সুয়োগ নেই। কারন পদোন্নতি আর সরাসরি নিয়োগ একেবারেই ভিন্ন শর্তের আবর্তে সম্পন্ন হয়ে থাকে।

সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ সহ বিগত প্রায় সব কয়টি নিয়োগ বিধিমালায় পদোন্নতি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ৭ বছরের সহকারি শিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা ও সি ইন এড প্রশিক্ষণের শর্তই অত্যাবশ্যক হিসেবে রয়েছে।

তদোপুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ এর শর্ত ১০ ( ১) যেমন ভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩ রহিতকরণ করা হয়েছে। একই ভাবে শর্ত ১০(২) রহিত হওয়া বিধিমালায়  ইতিপুর্বে সম্পুর্ন হওয়া সকল কার‌্যাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ এর শর্তে সম্পাদিত বলে গন্য করা হয়েছে।

গ্রেডেশন তালিকা প্রেরণ সংক্রান্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২০ শর্তে নন ক্যাডার সরকারি কর্মচারীগনের জ্যৈষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিধিমালা ২০১১ এর শর্তের নির্দেশনা না থাকলেও অত্যাবশ্যকীয় ভাবে সেই বিধির শর্তের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রনয়ণ করতে হবে বাধ্যতামুলক ভাবেই। কারণ ৯ মার্চ ২০১৪ খ্রিঃ তারিখ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রানালয় ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ( পি এস সি)  হিসেবে ২য় শ্রেণির কর্মচারী।

জ্যেষ্ঠতার তালিকায় সন্নিবেশিত সহকারী শিক্ষকরাই আগামী দিনের প্রধান শিক্ষক।

আশা করি নিমোক্ত বিধিমালাগুলোর সন্নিবেশিত শর্তে নির্ধারিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টি পর্যালাচলায় প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি নিয়ে ধুম্রজাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্ট ভুল বুঝাবুঝি দুর হবে।