প্রতি উপজেলায় এক হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা!

রুপকল্প ২০৪১ বাস্তবে রুপায়ন :বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১  শীর্ষক প্রকল্পের উদ্যোগে প্রতি উপজেলা থেকে প্রতি বছর এক হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। সেই উন্নত বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার নেমে আসবে তিন শতাংশ। চরম দারিদ্যতার হার হবে ১ শতাংশের ও কম। গ্রাম-শহরে বৈষম্য কমবে । ৮০শতাংশ মানুষ শহুরে জীবনযাপনের সব সুবিধা পাবে। গড় আয় বেড়ে হবে ৮৩ বছর। সেই সঙ্গে বাড়বে মোট দেশজ উৎপাদন( জিডিপি)।

প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় (২০২১-৪১) মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জনমিতিক লভ্যাংশ আহরণ বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০৪১ সালের মধ্যে নিরঙ্কুশ দারিদ্র্য সর্বাংশে দূর করাসহ উচ্চ আয়ের মর্যাদা অর্জনের জন্য মূল্য প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য নিরসন সংশ্লিষ্ট অভীষ্ট সামনে রেখে মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এর কর্মসূচী পরিচালিত হবে। বিশেষ করে এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির প্রতিষ্ঠান, জনসংখ্যার শতভাগ সাক্ষরতা, ১২ বছর বয়সীদের জন্য সর্বজনীন অবৈতনিক শিক্ষা, কর্মভিত্তিক দক্ষতা অর্জনে আগ্রহীদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি, সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্যবিমা স্কিমে সর্বজনীন অভিগম্যতা, সংগঠিত খাতে সব কর্মীকে কর্মকালীন দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যবিমার শতভাগ আওতায় আনা এবং প্রতি উপজেলা থেকে প্রতি বছর এক হাজার তরুণ-তরুণীর জন্য চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান করা।

২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত এই বাংলাদেশ গড়ে তোলার কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে সরকার। সেই রূপরেখা অনুযায়ী অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এর বাস্তবায়ন। এমন আরও তিনটি, অর্থাৎ মোট চারটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত রূপ পাবে। চূড়ান্ত এই রূপরেখা শিরোনাম ‘রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে রূপরেখা: বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-৪১’ সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনইসি বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় রয়েছে ১২টি অধ্যায়। এর মধ্যে যেমন শিল্প ও বাণিজ্য, কৃষি, বিদ্যুত ও জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মতো বিষয় রয়েছে, তেমনি রয়েছে সুশাসন, মানব উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশের মতো বিষয়গুলোও। এর মধ্যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো আছে, যাতে প্রতি অর্থবছরের অর্থনীতির সূচকগুলো লক্ষ্যমাত্রা বিস্তারিতভাবে দেয়া হয়েছে। ২০২১ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, তথা রূপকল্প ২০২১-এর ধারাবাহিকতায় ২০ বছর মেয়াদী দ্বিতীয় এই প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রেক্ষিত পরিকল্পনার প্রক্ষেপণে বলা হয়েছে, ২০৩১ সালে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৯ শতাংশে। সেটি আবার বাড়তে বাড়তে ২০৪১ সালে গিয়ে হবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। একইসঙ্গে চরম দারিদ্র্যের হার ২০২০ সালে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২০৩১ সালে পৌঁছাবে ২ দশমিক ৩ শতাংশে। সেটি পরিকল্পনার শেষ বছর ২০৪১ সালে কমে দাঁড়াবে ১ শতাংশের নিচে। অন্যদিকে দারিদ্র্যের হার বর্তমান বছরের ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ২০৩১ সালে দাঁড়াবে ৭ দশমিক শূন্য শতাংশে। পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শেষে ২০৪১ সালে এ হার নেমে যাবে ৩ শতাংশের নিচে।

প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় (২০২১-৪১) মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, দেশের মানুষের সম্ভাব্য আয়ু ২০৩১ সালের মধ্যে ৭৫ বছর এবং ২০৪১ সালে ৮৩ বছরে নিয়ে যাওয়া। জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ২০৩১ সালের মধ্যে ১ শতাংশে নিয়ে আসা এবং ২০৪১ সাল পর্যন্ত এই হারই ধরে রাখা। মাতৃমৃত্যুর হার ২০৩১ সালে প্রতি লাখে ৭০ জন এবং ২০৪১ সালে তা কমিয়ে ৩৬ জনে নিয়ে আসা। শিশুমৃত্যুর হার ২০৩১ সালের মধ্যে প্রতি হাজারে (জীবিত জন্ম) ১৫ জনে নিয়ে আসা ও ২০৪১ সালে তা চারজনে নিয়ে আসা।

উচ্চশিক্ষার হার ২০৩১ সালে ৫০ শতাংশ নিশ্চিত করা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ নিশ্চিত করা। উচ্চশিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীদের শতকরা ভাগ ২০৩১ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ নিশ্চিত করা এবং ২০৪১ সাল পর্যন্ত তা ধরে রাখা। টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষায় ভর্তির হার ২০৩১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ করা এবং ২০৪১ সালে তা ৪১ শতাংশ করা। শিক্ষায় জনসাধারণের ব্যয় ২০৩১ সালে মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করা এবং ২০৪১ সালে ৪ শতাংশ করা।