শহিদ মিনার রাজশাহী জেলার পবায়

আন্তরিকতা ও ইচ্ছা থাকলে যে ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায় তা প্রমাণ করলো  রাজশাহী জেলার পবা শিক্ষা অফিস। পবার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার স্থাপন করে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখলেন পবা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোখলেছুর রহমান। তিনি এই করোনাকালে উপজেলার ৮৩টি বিদ্যালয়ে নির্মাণ করেছেন শহিদ মিনার।

এতদিন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও জাতীয় শহিদ দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশুদের যেতে হতো অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের শহিদ মিনারে। আবার কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অস্থায়ীভাবে শহিদ মিনার বানিয়ে দিবসটি পালন করতো। কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার না বানিয়ে শুধু আলোচনা সভা বা মিলাদ মাহফিল করে দিবসটি পালন করা হয়। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে তাও করা হয় না। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালিত হয় সরকারি ছুটি হিসেবে। শিক্ষকরা বইয়ে ছবি দেখিয়ে শিশুদের শহিদ মিনার চেনাতো। কিন্তু এখন পবার শিশুদের আর ছবি দেখে শহিদ মিনার চিনতে হবে না। বিভিন্ন দিবসে ফুল দিতে যেতে হবে না অন্য জায়গায়। এখন তাদের নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই তৈরি হয়েছে শহিদ মিনার।

উপজেলার বেতকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার ছিল না। তারা বিভিন্ন দিবসে নওহাটায় স্মৃতিসৌধে আসতো শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। হারুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক নাজমা ফেরদৌসী জানান, ‘তার বিদ্যালয়ে শহিদমিনার ছিল না। তবে বিভিন্ন দিবসে অস্থায়ীভাবে শহিদমিনার তৈরি করে শ্রদ্ধা জানানো হতো। এবারে পবা উপজেলা শিক্ষা অফিসার শহিদ মিনার নির্মাণ করে দিলেন। এখন থেকে শহিদ দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলো অনেক ভালোভাবে উদযাপন হবে।

আমাদের দেশের মানুষ যে ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তার সাক্ষী দিবে এসব শহিদ মিনার। শিশুরা ছোটকাল থেকে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। একই মন্তব্য করেন মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক নাজনীন আরা, দুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক কামরুননেসা। শহিদ মিনারের জন্য স্কুল খুললেই শিশুরা নতুন পরিবেশ পাবে। তাদের জানার আগ্রহ বেড়ে যাবে।

পবা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, শহিদ মিনার একটি আন্দোলনের প্রতীক। শহিদদের শ্রদ্ধাবোধের নিখাদ স্তম্ভ, যা শিশুদের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা, দেশের প্রতি মমত্ববোধ, দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি হবে।

রাজশাহী জেলা প্রাথমিক অফিস জানায়, জেলায় এক হাজার ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১০৭টিতে শহিদ মিনার ছিল। বাকিগুলোতে ছিল না। এবছর পবা উপজেলায় সবকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও তানোর উপজেলা কিছু বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ জেলায় প্রায় ৭০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শহিদমিনার। যদিও দপ্তরটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদমিনার নির্মাণ করা হবে।

রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন জেলায় মাত্র ১০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার ছিল। এবার পবা উপজেলার সবকটিতে ও তানোর উপজেলায় বেশকিছু শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ভালো খবর। পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার তৈরি করা হবে।