ব্যাপক সাড়া প্রাথমিকের শিক্ষক হতে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন শুরুর ১৫ দিনেই আবেদন জমা পড়েছে প্রায় পাঁচ লাখ।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) জানায়, ধারণা করা হচ্ছে, আবেদনের সময়সীমা ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১৫ লাখ আবেদন জমা পড়বে।

ডিপিই বলছে, এবার রেকর্ড সংখ্যাক আবেদন জমা পড়বে বলে আশা করছি। করোনার কারণে দীর্ঘদিন চাকরির পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আবেদনের এ হিড়িক।

তবে চাকরিপ্রত্যাশীরা বলছেন, গ্রেড উন্নীত হওয়ার কারণেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের পদে চাকরিতে আগ্রহী হচ্ছেন তারা। গাজী শরীফ নামে এক আবেদনকারী বলেন, আগে কখনোই প্রাথমিকে পরীক্ষা দেইনি। কিন্তু করোনার কারণে একটা বছর বসেছিলাম, কোথাও পরীক্ষা দিতে পারিনি। এ সময়ে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডও বাড়িয়েছে সরকার। পরবর্তী সময়ে আরো বাড়ানো হবে বলে আমার ধারণা। তাই আবেদন করেছি।  

তার মতো আরো অনেকেই বলছেন, গ্রেড বেড়ে যাওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে বেতন-ভাতার সঙ্গে সঙ্গে মর্যাদাও এখন আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে তরুণদের মধ্যে এখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আবেদনের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সহকারী পরিচালক আতিক বিন সাত্তার বলেন, প্রাথমিকে নিয়োগ পেতে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ আবেদন জমা পড়েছে। এ সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। আর যে ১৫ দিন সুযোগ আছে, সে সময়ে আবেদন রেকর্ড সংখ্যাক হবে বলে মনে করছি।

নিয়োগ পরীক্ষা কবে নাগাদ হতে পারে, জানতে চাইলে ডিপিইর এ কর্মকর্তা বলেন, আবেদন কার্যক্রম শেষে শুরু হবে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। এরপর লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হবে। লিখিত পরীক্ষা শুরু হতে আবেদন শেষ হওয়ার পর একমাস সময় লাগতে পারে।

তবে ডিপিইর আরেকটি সূত্র বলছে, আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাই পরীক্ষার আয়োজন করতে সময় বেশি লাগতে পারে। আবেদন শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা শুরু করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এবার সব মিলিয়ে সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। দেশের ইতিহাসে সরকারি কোনো চাকরিতে এটিই বৃহত্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। শূন্য আসনের বিপরীতে চাররিপ্রার্থীর সংখ্যা সবসময় বেশি দেখা গিয়েছে। তবে এবার এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের বেতন হবে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর গ্রেড ১৩ অনুযায়ী ১১০০০-২৬৫৯০ টাকা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা সম্মান বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। প্রার্থীদের বয়স ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সর্বনিম্ন ২১ বছর এবং গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩০ বছর হতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে এ বয়সসীমা হবে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ৩২ বছর। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর গত ২৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়।

আগামী ২৪ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা। এবারের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সারাদেশে ২৫ হাজার ৬৩০ জন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক এবং ছয় হাজার ৯৪৭টি শূন্য পদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।