মুখে বিকেন্দ্রীকরণ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণালয় , চলছে পুরাতন নিয়মেই

ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের ঘোষণা অনেক আগেই দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত অর্থে তা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের কোনো শিক্ষককে যদি সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে হয় এজন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অফিস অর্ডার লাগে। তাহলে ক্ষমতা কোথায় বিকেন্দ্রীকরণ করা হলো!

গত ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারী ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের পরিপত্র জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরিপত্রে বলা হয়, ১৪-১২তম গ্রেড পর্যন্ত শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সন্তোষজনক চাকরির প্রত্যয়ন আগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের থাকলেও পরবর্তীতে বিকেন্দ্রীকরণ করে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু প্রায় দুবছর হতে চললেও এখন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহবুবর রহমান  বলেন, প্রতি ১০ বছর পর উচ্চতর স্কেল বা টাইমস্কেল একজন শিক্ষকের ন্যায্য অধিকার। মহামান্য রাষ্ট্রপ‌তির অনু‌মোদ‌নে জাতীয় পে স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে হওয়ার কথা। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ১৪তম থে‌কে ১২তম গ্রেডের সহকারী শিক্ষক‌দের উপজেলা শিক্ষা অফিসারের চাকরির স‌ন্তোষজনক প্রত্যয়ন লাগ‌বে। অথচ একজন শিক্ষককে তার প্রাপ্য অধিকারের জন্য সারা‌দে‌শে প্রথমে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরবর্তীতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পেছনে ঘুরতে হচ্ছে। অনেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নানা টালবাহানায় শিক্ষকদের হেনস্থা করছে। এছাড়া এমন ঘটনার কারণে দুর্নীতির সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সরকারের ঘোষিত ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ শুধু মুখে নয় মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন চান সব শিক্ষকরা।

একাধিক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিপিইও) সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার শিক্ষকদের বদলি, বেতন ও আর্থিক বিষয় সব কিছু নির্ধারণ করে ডিপিইও। এটি একটি সাধারণ নিয়ম। ২০১৫ সালের জাতীয় পে স্কেলে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্টতা নেই। এছাড়া অধিদপ্তরও এ বিষয়ে কোনো সাধারণ চিঠি দেয়নি।

অপরদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, এ ধরণের স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে একজন উপজেলা বা শিক্ষা কর্মকর্তা কেনো ঝুঁকি নেবেন?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঝিনাইদহের এক উপজেলা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা  জানান, আমার দিতে কোনো সমস্যা নেই। আামি যদি ৫ কোটি টাকার সই করে দেয় আর অধিদপ্তর থেকে যদি বলে আমাকে এই এখতিয়ার কে দিয়েছে তখন আমি বিপদে পড়ে যাবো। একারণে ডিপিইওর সইও নিয়ে রাখা হয়। তবে সবকিছুর জন্য তিনি সমন্বয়হীনতার অভাব বলে মনে করেন তারা।

এ বিষয়টি স্বীকার করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিচালক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে  তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত যে সমন্বয়হীনতার রয়েছে। তা আগে ঠিক করতে হবে। এখান কিছু গোষ্ঠী রয়েছে যাদের স্বার্থে এখন পর্যন্ত আদালতে হাজার হাজার মামলা চলমান রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক শিক্ষা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য সমন্বয় বিশেষ প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম বাংলাদেশ  বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার। সব সমস্যায় চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধান করা হবে।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম  দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।