সমযোগ্যতা বা নিম্বযোগ্যতায় অন্যরা ১০ গ্রেড পেলে প্রাথমিক শিক্ষকরা পাবে না কেন

জাতি গড়ার কারিগন হলো প্রাথমিক শিক্ষক। শিক্ষকরা মোমের মত নিঃশেষ করে জাতিকে শিক্ষার আলো দিয়ে আসতেছেন। শিক্ষক হলেও তারাও তো মানুষ, তাদেরও মন চায় অন্যদের মত মানসম্মত গ্রেড পেয়ে নিজের মাথা উঁচু করে প্রাথমিক শিক্ষক হিসাবে পরিচয় দিতে।

প্রাথমিক প্রধান বা সহকারি হিসাবে নিয়োগ পেতে হলে একজন প্রার্থীকে সর্বনিম্ন ২য় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রীধারী হতে হয় । সেই সাথে নিয়োগ পাওয়ার পর পর সেই শিক্ষককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য আইই আর এর অধীনে বাধ্যতামূলক ভাবে দেড় বছন মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারী এডুকেশন ( ডিপিএড ) কোর্স সমপন্ন করতে হয়।

একজন স্নাতক ডিপ্লোমাধারী শিক্ষক ১৪ তম গ্রেড এ বেতন পায় আর অন্য দিকে এস এস সি বা এইচ এস সি পড়ে ডিপ্লোমা করে অথবা স্নাতক শিক্ষাগত যোগ্যতায় অন্য ডিপার্টমেন্টে কর্মকর্তরা ১০ গ্রেড পাচ্ছেন। বিষয়টা যতটা না বেতনের সাথে জড়িত তার থেকে বেশি জড়িত শিক্ষকদের আত্বসম্মানের ।

প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ই-মনিটরিং সিস্টেম ওরিয়েন্টেশনে অংশগ্রহনের জন্য গুগলে রেজিষ্ট্রেশন প্রসঙ্গে

কারন বর্তমানে চাকুরীজীবীদের সম্মান নিধারণ হয় গ্রেড দিয়ে, পেশা দিয়ে নয়। অন্য পেশাজীবীদের প্রতি প্রাথমিক শিক্ষকদের কোন হিংসা নাই। তবে সামাজিক অনু্ষ্ঠানে অথবা কোন সভায় শিক্ষকদের নিম্ন গ্রেড নিয়ে অসম্মানজনক অবস্থায় পড়তে হয়। শিক্ষক যখন দেখেন তার সমযোগ্যতার বা তার চেয়ে নিম্নযোগ্যতা নিয়ে ১০ গ্রেড পেয়ে শিক্ষকদের সামনে মাথা উঁচু করে নিজের পরিচয় দেয় অথবা শিক্ষকদের চেয়ে বেশি মর্যাদা পায় তখন সেই শিক্ষকরা মনে যে আঘাত প্রাপ্ত হয় , তারপ প্রভাব পড়ে শ্রেণিককক্ষে।

গৃহঋণ সরকারি চাকুরেদের কারা কতো পাবেন

কারন সেই শিক্ষক যতই আন্তরিক হোকনা কেন তার মনে ভেঙ্গে গেলে সে কখনোই পাঠদানে আন্তরিক হতে পারবেন না । এখন হয়তো কিছু মানুষ বোকা শান্তনা দিয়ে বলবেন আপনার ওদের পেশার সাথে নিজের পেশার তুলনা  কেন করবেন ,আপনার শিক্ষক আপনাদের মর্যাদা সবার উপরে।

১১-১৬ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য সুখবর

আচ্ছা শিক্ষকদের মর্যাদা যদি সবার উপরে হয় তাহলে নির্বাচনের ডিউটির সময কেন অন্য ডিপার্টমেন্টের ১০ গ্রেডে কর্মরতদের প্রিজাইডিং  অফিসারের দায়িত্ব দেয়া হয় কিন্তু সমযোগ্যতার নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মরত শিক্ষকদের পোলিং অফিসার করা হয় কেন?

তখন কোথায় থাকে আপনাদের শিক্ষকদের সম্মান ? শিক্ষকদের মর্যাদা দিনয়ে আপনাদের কথা ঠিক হলেতো নিম্ন বেতন গ্রেডে হলেও প্রাথমিক শিক্ষকরা  প্রিজাইডিং  অফিসারের দায়িত্ব  পেতেন।

প্রাথমিক শিক্ষকদের হয়রানি কমাতে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ

এবার কিছু ব্যক্তি শিক্ষকদের বলবেন আপনারা জেনে শুনে তো এ পেশায় ্ এসেছেন, তাহলে ১০গ্রেড চান কেন? আচ্ছা পুলিশের এসআই , নার্স, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বুঝি তাদের গ্রেড জেনে তাদের পেশায় যোগদান করেন নি ? তাহলে তারা কীভাবে ১০ গ্রেড আদায় করল?

এবার আরেক শ্রেণির মানুষ এসে বলবেন আপনাদের মহিলা শিক্ষকরাতো এইচ এস সি পাশে নিয়োগ পেত। হ্যা, একসময় মহিলা শিক্ষকরা এইচ এস সি পশে নিয়োগ পেত কিন্তু নিয়োগবিধি ২০১৯ কার্যকর হওয়ায় আগের সব নিয়োগবিধি রহিত হয়ে গেছে। বর্তমানে ২য় শ্রেণির স্নাতক ছাড়া কোন মহিলাও  প্রাথমিক শিক্ষক হতে পারবে না।

New EFT From Word Formet

তাছাড়া পুর্বের মহিলারা  এইচ এস সি পাশে নিয়োগ পেলেও ডিপার্টমেন্টের অনুমতি নিয়ে অথবা অনুমতি ছাড়া রেগুলার বা  ইরেগুলার ভাবে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেছেন। গণশিক্ষা মন্ত্রাণালয় বিশেষ আদেশ দিয়ে মহিলা শিক্ষকদের অনুমতিবিহীন সেই অবৈধভাবে অজিত সনদ সংযুক্ত করার অনুমতি দিয়েছেন।গণশিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের সনদ সংযুক্ত করার অনুমতি দেয়ার জন্য প্রাথমিকে অল্প কিছু বাদ দিয়ে বাকি যেসব মহিলা শিক্ষকরা এইচ এস সি পাশে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন তারাও েএখন সনদ যুক্ত করে অফিসিয়ালী উচ্চতর ডিগ্রীধারী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাই এস এস সি বা এইচ এস সি পাশের যুক্তি আর প্রযোজ্য নয়। তাছাড়া অনেকে ডিপাটমেন্টে েএকসময়  এস এস সি ,  এইচ এস সি পাশে নিয়োগ হলেও পরে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বেতন আপগ্রেড হওয়ায় পরে আগের কমকতারাও সকল সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন।

কিছু দিন আগে একজন থানার ওসি এস এস সি পরীক্ষা দেয়ার বিষয়টি ভাইরাল হয়েছিল যিনি ৮ম শ্রেণি পাশ করে পুলিশে জয়েন করেছিলেন। সে এখন ১ম শ্রেণির অফিসার।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২১ সালে মোট ছুটি ৮৫ দিন

একজন শিক্ষকের সামাজিক  ও আরি্ক সুবিধা দেখেতো মেধাবীরা শিক্ষক হতে আগ্রহী হবেন। আমাদের দেশে শিক্ষকদের আথ-সামাজিক মযাদা নিম্ন রাখা হয় তাহলে শিক্ষার মান তো নিচেই থাকবে।