ইবাদতে মনোযোগের ঘাতটি ও কিছু আলোচনা

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন উনার ইবাদতের জন্য। মানবজাতিকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। আল্লাহর সকল আদেশ নিষেধ মেনে চলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কিভাবে ইবাদত করতে হবে ও এক মহান স্রষ্টার আনুগত্য করার উপায় সম্পর্কে পবিত্র আল কোরআন ও হাদীসের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়েছে।

EFT-তে মাতৃত্ব ছুটি এবং সন্তানের জন্ম তারিখের অসাঞ্জস্যতা নিয়ে কিছু প্যাঁচাল

ইবাদত করার মূলশর্তই হচ্ছে, হালাল রিজিক ভক্ষন করা। হালাল উপার্জনের মাধ্যমে তৈরি দেহ দিয়ে ইবাদত করতে হবে, আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে হলে। মহানবী (সা) দরিদ্র অবস্থাকে অধিক পছন্দ করতেন। সকল নবী রাসুলই নিজের হাতে পরিশ্রম করে উপার্জন করে সংসার চালাতেন। হারামকে উনারা প্রচন্ড ভয় পেতেন ও ঘৃণা করতেন।

আমরা আমাদের ইবাদতের সময় মন স্থির রাখতে পারিনা। নামাজে দাঁড়ালে মন চতুর্দিকে চলে যায়। আজে বাজে ভাবনা মনে এসে ভীর করে। এটি আমাদের দুর্বল ঈমানের লক্ষণ। একটি ঘটনা বলি, দুজন লোক একজন আলেম ব্যক্তির নিকট এসে বললো, তারা ইবাদতের সময় মন স্থির রাখতে পারে না। মন এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ায়। তারা বললো এই সমস্যার সমাধান চাই। তখন, আলেম ব্যক্তিটি বললেন ঠিক আছে, এই বলে দুজনের চোখ বাঁধলেন।

দুজনের হাতে পানিভর্তি একটি করে গ্লাস দিলেন। বললেন, এই সমান মাঠে তোমরা বিশ কদম হাঁটবে। সাবধান, পানি যেন না পড়ে। একজনকে বলা হলো পানি না ফেলে হেঁটে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলে একশ দিরহাম দেওয়া হবে। অপরজনকে বলা হলো যতটুকু পানি পরবে, তোমার রক্ত দিয়ে ততটুকু পূর্ণ করা হবে।

যে সব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা পেনশন পাবেন না

দু'জনই খুব ভয়ে ভয়ে সতর্ক হয়ে হেঁটে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। এবং দুজনের গ্লাসই পানিতে পূর্ণ ছিলো। তখন, কামেল লোকটি বললেন দেখো, চোখ বাঁধা থাকা সত্ত্বেও তোমরা একজন ভয়ে ও অপরজন পুরস্কারের আশায় পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছিলে।

ঠিক তেমনি তোমরা ইবাদতের সময় স্মরণ রাখবে, তোমার রব তোমাকে দেখছেন, দুজন ফেরেস্তা সর্বোক্ষন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছেন। আর যদি তোমরা সঠিক ইবাদত করতে পারো তবে তোমাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া এবং আখিরাতের অফুরন্ত কল্যান ও পুরস্কার। আর যদি ব্যর্থ হও তবে এর বিনিময়ে আছে জাহান্নামের কঠোরতম শাস্তি। 

যুক্তরাজ্য বিশ্বের প্রথম করোনা টিকার অনুমোদন দিল

দুজন লোকই বুঝতে পেরে চলে গেলেন। আমাদের সকলেরই ইবাদতের প্রতি একাগ্রতা থাকতে হবে। সিফফিনের যুদ্ধে হযরত আলী (রাঃ) পায়ে তীর বিদ্ধ হন। কোন অবস্থাতেই তীরটি বের করতে পারা যাচ্ছে না। অনেক যন্ত্রণা হচ্ছে। এরপর আলী রাঃ যখন সালাতে দাঁড়ালেন তখন তীরটি পেছন থেকে টান দিয়ে বের করে ফেলেন এক সাহাবী। সালাত শেষে আলী রাঃ বলেন তিনি বুঝতেই পারেন নি কখন তীরটি খোলা হয়েছে। এরকম ছিলেন, উনাদের ঈমান। আল্লাহ তুমি আমাদের ঈমানও মজবুত করে দাও। আমাদের মতো দুর্বল ঈমানের মুসলমানদের তুমি ক্ষমা করে দাও।

মোঃ সাইফুল হক খান সাদী

অনার্স, মাস্টার্স সমাজবিজ্ঞান