ঘটা করে বিয়ের কনে দেখা

আমাদের সমাজব্যবস্থায় বহু প্রাচীন কাল থেকেই ছেলের বিয়ের জন্য ঘটা করে কনে দেখতে যাওয়ার চল বা রেওয়াজ চালু আছে। আমরা ছোট থেকেই দেখে আসছি, বিবাহযোগ্য কোন মেয়ে দেখতে দলবেঁধে বরপক্ষের লোকজনের আসার অনুষ্ঠান।

আরোঃ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করার নিদের্শ

গ্রাম অঞ্চলে, এখনও এই প্রথাটির খুবই চল আছে। যার এক বা একাধিক বিবাহযোগ্য মেয়ে আছে, তিনিই জানেন এটি কতটা অভিশপ্ত একটি প্রথা। কনে দেখার নির্দিষ্ট দিনে, কনের বাড়িতে শুরু হয় একটা হুলস্থুল ব্যাপার। কনের বাবা তার সাধ্যমতো খাবারের জোগাড় করেন। নিকট আত্নীয় স্বজনকে বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসেন। বিয়ের কনে বা মেয়ের কাটে নির্ঘুম, চিন্তাময় রাত।

পাশাপাশি মনের মধ্যে চলতে থাকে, বহু চিন্তা, আশংকা ও নতুন স্বপ্ন বোনা। অনুষ্ঠানের দিন, দলবেঁধে বরপক্ষ যখন কনের বাড়িতে আসে, তখন চলতে থাকে আপ্যায়নের মহাচেষ্টা। খাওয়া পর্ব শেষ হওয়ার পর মেয়ে কে ঘরবর্তী মানুষের সামনে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে আসা হয়। সালাম দিয়ে কনে যখন সবার সামনে বসে, তখন চারিদিক থেকে একের পর এক প্রশ্নবান চলতে থাকে কনের উপর। আর কতজনের কতরকমের দৃষ্টি পরতে থাকে অভিরত। অনেক সময়, আবার কনে কে হেটে দেখাতে, পায়ের পাতা, চুল, হাতের আঙ্গুল বের করেও দেখাতে বলে। এটা যে একটা মেয়ের মনের মধ্যে কতবড় প্রভাব ফেলায় এটা শুধু ঐ মেয়েই জানে। চিরপরিচিত ঘরটাকে তার অচেনা মনে হয়।

আরোঃ অফিসে করোনার অজুহাতে অনুপস্থিত থাকা যাবে না

আমি এরকম কয়েকটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম, এসব দেখেই আমি বাহির হয়ে আসি। আর তখনই সিদ্ধান্ত নেই এ বিষয় নিয়ে কিছু লিখবো। তারপরও মেয়েটি কাঠের পুতুলের মতো সবকিছুই পালন করে। ছেলেপক্ষ চলে যাবার পূর্বে কিছু টাকা মেয়েটির হাতে গুঁজে দেয়। এটাও দৃষ্টিকটু লাগে আমার নিকট। এরপর চলে কনে পক্ষের অপেক্ষার পালা। কি খবর আসে ঐ পক্ষ থেকে।

খবর ইতিবাচকও হতে পারে আবার নেতিবাচকও হয়ে থাকে। আমি বিশ্বাস করি স্রষ্টার সৃষ্ট সকল মানুষই সুন্দর। সমাজের চোখে যারা একটু কালো, অসুন্দর বলে, তাদের মনে কষ্টটা বারবার বাজে। এভাবেই ঘটে থাকে মেয়েদের স্বপ্নের অপমৃত্যু। এ কুপ্রথাটি বন্ধ হওয়া উচিত।

আরোঃ পরনিন্দা,পরচর্চার অভ্যাস থেকে যেন সবাই মুক্ত থাকি

সবকিছুই ঠিকঠাক হবার পরই ঘটা করে কনে দেখতে যাওয়া উচিত কথাবার্তা চূড়ান্ত করার জন্য। দেখাদেখি, পছন্দ – অপছন্দ এগুলো অনানুষ্ঠানিক ভাবে সম্পন্ন করা উচিত। প্রয়োজনে মা, বোন, খালা, চাচি কিংবা অন্য কোন মহিলা আত্নীয়দের কনের বাড়িতে পাঠানো যেতে পারে। এবিষয়টি নিয়ে আমাদের সকলেরই একটু হলেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

লেখকঃ মোঃ সাইফুল হক খান সাদী

অনার্স,মাস্টার্স সমাজবিজ্ঞান