বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি, তাহলেই কমবে অপরাধ

সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষন বিরোধী প্রতিবাদে দেশের মানুষ সোচ্চার। ধর্ষন হচ্ছে,একটি নিকৃষ্ট ও সর্বোচ্চ ঘৃণ্য আচরণিক বহিঃপ্রকাশ। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ জানা সত্ত্বেও ধর্ষকরা কেন এই ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে পড়ে সেটা জানা প্রয়োজন।

কিশোর গ্যাং শব্দটিও মিডিয়ায় এখন খুব আলোচিত। কেউই অপরাধী হয়ে জন্মায় না। নতুন কিছুর প্রতি কৌতূহল, কুসংঘ, নেশা,লোভ,হিংসা,ক্রোধ, পারিবারিক অশান্তি, অনুকরণপ্রিয়তা, প্রতিশোধ স্পৃহা, অপসংস্কৃতির প্রভাবে অপরাধে সে জড়িয়ে পড়ে।

অপরাধ বৃদ্ধির কিছু কারণঃ

# নব্বই ও পরবর্তী দশকের শিশু কিশোরদের মূল আগ্রহ ছিলো খেলার মাঠ। ফুটবল, ক্রিকেট ও নানা রকম দেশীয় খেলায় তারা সুস্থ বিনোদন খুঁজে নিতো। এখন, মোবাইল ফোন এর জায়গা দখল করে নিয়েছে।

# ঐ সময় পরিবারের বয়স্করা, সমাজের মুরব্বি, স্কুলের শিক্ষক শিশু-কিশোরদের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতো ও প্রয়োজনে শাসন করতো। কিন্তু বর্তমানে কেউ কাউকে মানতে চায় না। সকলেই নিজের সম্মান বাঁচিয়ে রেখে নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।

# অতিমাত্রায় মোবাইল আসক্তি ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে তারা অশ্লীলতা, নোংরামি ও হিংস্রতার প্রতি ঝুঁকে পরছে।

# অভিভাবকদের ব্যস্ততার সুযোগ কাজে লাগিয়ে, শিশু কিশোররা বেপরোয়া, একরোখা হয়ে পড়ছে। কুসংঘে মিশে নেশায় আসক্ত হচ্ছে।

# যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করতে না পারা, অথবা দীর্ঘদিন বেকার থেকে অনেকের মধ্যেই বিষন্নতা, হতাশার জন্ম নিয়েছে। পরবর্তীতে নানারকম অপকর্মে নিজেকে জড়াচ্ছে।

# অপরাধীর শাস্তি কার্যকরের দীর্ঘসূত্রিতাও একটি কারণ। তাদের মনের শাস্তির মধ্যে ভয় কমে যায় ও বেপরোয়া ভাবের সৃষ্টি হয়।

# বাবা-মা বা আত্মীয়স্বজন সন্তানদের নগদ অর্থ দিয়ে থাকে। তাদের হাতে টাকা দেওয়াটাও একটি বড় ভুল। প্রয়োজনীয় জিনিসটি নিজে কিনে দিন।

# নিজনিজ ধর্মীয় শিক্ষার অভাব দেখা দিয়েছে বর্তমান শিশু কিশোরদের মধ্যে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

সুপথে ফেরানোর কিছু চেষ্টা :

 ব্যাক্তি,পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সকলের সম্মেলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কুপথ থেকে সুপথে ফিরে আসবে 

# প্রতিটি পাড়া, মহল্লায় খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নিয়মিত দেশীয় ও অন্যান্য খেলাধুলার বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে। যেন শিশু কিশোররা সুস্থ বিনোদন খুঁজে নেয়।

# প্রতিটি পাড়ায় পাঠাগার স্থাপন করা প্রয়োজন। সেখানে বিভিন্ন বই,পত্রিকা পড়ে সময় কাটাবে ও জ্ঞান অর্জন করার পাশাপাশি সুস্থ বিনোদন খুঁজে নিবে।

# পরিবারের বয়স্করা ছোটদের প্রতি সবসময় দৃষ্টিও খেয়াল রাখবে। তাদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে হবে। নগদ টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সমাজের সকল কাঙ্ক্ষিত আচরণগুলো শেখাতে হবে।

# শিক্ষকগণ বিভিন্ন অপরাধের কুপ্রভাব ও তার শাস্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বলবেন। যেন ছোট থেকেই তাদের মধ্যে অপরাধের প্রতি ভয় জন্ম নেয়।

# সকল ধরনের অশ্লীলতা বন্ধ করতে হবে। অশ্লীল নাটক, সিনেমা, ভিডিও, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, সিনেমার অশ্লীল পোস্টার বন্ধ করতে হবে। সবারই শালীন, ভদ্র পোশাকে চলাফেরা করা প্রয়োজন।

# কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে কাজে যুক্ত রাখতে হবে। অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডাখানা। কর্মমুখী ও বিভিন্ন কারিগরী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।

# পাড়া মহল্লায় রাস্তায় নিয়মিত টহল বাড়াতে হবে। সিভিল পোশাকে আনসার সদস্যও টহল দিতে পারেন। সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

# রাস্তা, মোড়, সকল স্থানেই আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। রাতে একা না বের হয়ে সম্ভব হলে নারীরা দুতিন জন একসাথে হয়ে চলচল করতে পারেন। জরুরি সেবার নম্বর গুলো মোবাইলে সেভ রাখবে।

# ধর্মীয় উপাসনালয়ে অপরাধের ঘৃণ্যতা সম্পর্কে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় শাস্তির বিবরণ বর্ননা করে মানুষের মনে অপরাধ সম্পর্কে ভয় সৃষ্টি করতে হবে।

# অপরাধীর কৃত অপরাধের শাস্তি যতদ্রুত সম্ভব কার্যকর করা প্রয়োজন। এতে করে অন্যদের মনে অপরাধের প্রতি ভয় জন্ম নিবে। সর্বোপরি, নিজে নিজেকে সংশোধন করতে হবে। খারাপকে অনুসরণ না করে ভালোকে অনুসরণ করতে হবে। ধর্মীয় বিধি নিষেধের মানতে হবে। অসৎ সংঘ ত্যাগ করে নিজেকে যেকোন সৎ পেশায় নিযুক্ত রাখতে হবে। আশারাখি, একদিন শতভাগ অপরাধমুক্ত জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে সোনার বাংলাদেশ।

লেখকঃ মোঃ সাইফুল হক খান সাদী

অনার্স,মাষ্টার্স সমাজবিজ্ঞান