“ধর্ষক” তুমি পুরুষও না, মানুষও না

আজকের পোস্টের শিরোনামটি বিস্তারিত ব্যখ্যার পূর্বে কয়েকটি রুপক ও কাল্পনিক ঘটনার বর্ননা করছি।

ঘটনা ১ঃ উপমা চার বছরের ছোট্ট মেয়ে। তার বাবা -মা দুজনেই চাকরি করে। মধ্যবয়সী একজন কাজের বুয়ার নিকট উপমাকে রেখে যায় তার বাবা-মা। বুয়ার পনেরো বছরের একটা ছেলে আছে। সে প্রায়ই ঐ বাসায় আসে। একদিন, বুয়া দোকানে যায় তার ছেলেকে রেখে। আর ঐ সুযোগে শিশু উপমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে,বুয়ার ছেলেটি। ধর্ষিত হতে হয় ছোট্ট উপমা কে।

ঘটনা ২ঃ স্বপ্না গরীব ঘরের একটি মেয়ে। সে পড়া লেখায় অনেক দুর্বল। সে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুল ছুটির পর বাড়ি থেকে একটু দূরে, স্বপ্না এক কলেজ ছাত্রের নিকট প্রাইভেট পড়তে যায়। একদিন বাড়িতে কেউ না থাকায় কলেজ ছাত্রটি স্বপ্নাকে একা পেয়ে জাপটে ধরে ধর্ষন করে, স্বপ্নার কিছু বুঝার আগেই। স্বপ্নার স্বপ্নটা হঠাৎই থমকে যায়।

ঘটনা ৩ঃ সালমা হাইস্কুলে পড়ে। স্কুলের নতুন গণিত শিক্ষক তার দিকে কিভাবে যেন তাকায়। একদিন স্যার, সালমাকে ছুটির পর, অপেক্ষা করতে বলে,কঠিন অংক বুঝিয়ে দিবে বলে। সালমা ছুটির পর অপেক্ষা করে আর যা হবার তাই হয়। সে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে আসে।

ঘটনা ৪ঃ রুপা বাবা-মার খুবই আদরের একমাত্র মেয়ে। সে খুবই মেধাবী একটি মেয়ে। তার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। সে ইন্টারমিডিয়েট পড়ছে। একদিন কলেজ থেকে আসার পথে রাস্তায় প্রতিদিন বিরক্ত করা দু’তিন জন বখাটে যুবক রুপাকে পথ থেকে তুলে পাশের পোড়া মন্দিরের কাছে নিয়ে ধর্ষন করে। রুপা ও তার বাবা-মার আশা চিরদিনের মতোই থমকে যায়।

ঘটনা ৫ঃ নিশা রহমান উচ্চশিক্ষিত সুন্দরী নারী। সে বিবাহিতা। এক সন্তানের মা। তার স্বামী প্রবাসী। নিশা একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করে। নিশার বস নিশার প্রতি অন্যরকম একটা আকর্ষন অনুভব করে। একদিন নিশার কম্পিউটারে কাজ শেষ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। সবাই চলে যায়। নিশার বস পিয়নকে বাসার কাজে বাহিরে পাঠিয়ে দেয়। খালি অফিসে হঠাৎই নিশার বস নিশার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ধর্ষন করে।

ঘটনা ৬ঃ শহরে বখে যাওয়া তিন, চার জন ধনী যুবক বন্ধু গাড়ি নিয়ে লং ড্রাইভে ঘুরতে বের হয়। চা বাগানের পাশে নির্জন রাস্তায় তাদের গাড়ি থামায়। সামনে তাকিয়ে দেখে একজন মধ্যবয়সী নারী লাকড়ি সংগ্রহ করছে। নির্জন স্থান ও ঐ মহিলাকে একা দেখে, যুবকদের মধ্যে আদিম পাশবিকতা জেগে উঠে। হিংস্র হায়ানার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে মহিলাটির উপর। ধর্ষন করে দ্রুত গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে থাকে রক্তাক্ত নারীটি। উপরের উল্লেখিত সবগুলো কাল্পনিক ঘটনাই, প্রতিনিয়তই আমাদের সমাজে অহরহ ঘটছে। এ ঘটনা গুলোতে, শিশু থেকে মধ্যবয়সী, অল্পশিক্ষিত থেকে উচ্চশিক্ষিত নারী সকলেই ধর্ষকরূপী অমানুষের ঘৃণ্য লালসার শিকার হয়েছে। সবার স্বপ্নই থমকে গেছে কিছু কাপুরুষ ও মানুষ নামক অমানুষের হিংস্রতার কাছে। ক্ষনিকের বন্য পশুত্বের আনন্দ লাভের হিংস্র বাসনা যে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সে আমার চোখে মোটেও মানুষ নয়। তাকে পশু বলতেও লজ্জা ও ঘৃণা হয়, কারণ কোন প্রাপ্তবয়স্ক পশু, কখনও স্বগোত্রের কোন বাচ্চা পশুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে না। সে পুরুষও নয়, পুরুষ হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, অন্যকে সম্মান দিতে জানে, নিজের লালসাকে পরাস্ত করতে পারে। তুমি যদি পুরুষ হও তবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি মেয়ের ভালোবাসা জয় করে নাও। ধর্ষকরুপী অমানুষ ও কাপুরুষেরা আইনের শাস্তি, ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা,পরিবারের সম্মানের কথা ভাবে না। তারা নিজেরাতো কুলষিত হয়ই পাশাপাশি স্বজাতীয় পেশা ও সকল পুরুষজাতকেই লজ্জিত ও অপমানিত করে। তাদের ক্ষনিকের লালসার কাছে হেরে যায়, অনেক অনেক মেয়ে, কন্যা, বোন, বাবা মায়েদের স্বপ্ন। ধর্ষকদের কঠোর শাস্তি অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যকর করা দরকার। তাদেরকে সামাজিক ভাবে বয়কট করা উচিত। প্রয়োজনে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে। ধর্ষনের ভয়াবহতা সম্পর্কে প্রজেক্টরের মাধ্যমে গ্রামের মধ্যে প্রচারণা চালিয়ে, এর বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কুলের শিক্ষকদের এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্ষন বিরোধী মনোভাব তৈরি করতে হবে। ইমাম সাহেবদের সকল মসজিদে ধর্ষনের কুফল সম্পর্কে বলতে হবে। এর বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত তৈরি করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষিত সচেতন মানুষের নিকট অনুরোধ আপনারা এই ধর্ষন নামক চরম ঘৃণ্য কাজের বিরুদ্ধে কথা বলবেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় যেন আর কোন ধর্ষক জন্ম না নেয়, সেই কামনা করছি। আল্লাহ সকলকে হেফাজত করুন।

মোঃ সাইফুল হক খান সাদী

অনার্স,মাস্টার্স সমাজবিজ্ঞান।