প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সব শিক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত প্রসঙ্গে

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সব শিক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নিদের্শনা দিয়েছে ডিপিই। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের, ‘মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।’

করোনার ছুটি চলাকালে দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষকের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।  রোস্টার অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকবেন।  তবে সন্তানসম্ভবা শিক্ষিকা ও অসুস্থ শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদ্যালয়ে আসতে হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বই বিতরণ, উপবৃত্তি, ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা এবং শিশু জরিপের কাজের জন্য শিক্ষকদের উপস্থিত থাকতে হবে।  শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং মোবাইলে পাঠদানে সহযোগিতার জন্য শিক্ষকদের উপস্থিত থাকা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক রোস্টার করে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করবেন। তবে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসায় থাকবে। 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর এ সংক্রান্ত আদেশ দিলেও বিদ্যালয় পর্যায়ে এখনও তা পৌঁছেনি। সে কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে কিনা তা বেশিরভাগ শিক্ষকরা জানেন না। তবে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানা শিক্ষা অফিসার মোছা. জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ‘উপবৃত্তি কার্যক্রম, ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা, শিশু জরিপের কাজ পরিচালনা জন্য এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজের জন্য শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  আদেশ আসার আগেই আমি প্রধান শিক্ষকদের বলে দিয়েছি রোস্টার করে শিক্ষকদের উপস্থিত থাকার কথা।’

এদিকে গত ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়ে সব শিক্ষককে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বই বিতরণ কাজের জন্য।  এছাড়া প্রধান শিক্ষকদের বিদ্যালয় দেখভাল করার জন্য বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা আগে থেকেই দেওয়া হয়েছিল।  প্রধান শিক্ষক অথবা কোনও একজন জন শিক্ষককে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছিল আগের নির্দেশনায়।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হলে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এই বন্ধ দফায় দফায় বাড়িয়ে আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে।  শীতের করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ শুরুর পর বিদ্যালয় কবে খুলবে তার সুনির্দিষ্ট কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা বই উৎসব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে না আসলে বিদ্যালয় খোলা হবে না। আর সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন ‘ফেব্রুয়ারিতে দশম শ্রেণি এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে পুরো জানুয়ারি মাসে বিদ্যালয় খোলার সম্ভাবনা নেই।  তবে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে রোস্টার অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উপস্থিত থাকবে হবে।’