প্রাথমিকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বদলি হবে না : ডিপিই

শনিবার ( ৯ জানুয়ারি) প্রাথমিক শিক্ষক বদলির বিষয়ে বলেন ‘ম্যানুয়ালি আর বদলি নয় এমন মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এম মনসুর আলম।’

 মহাপরিচালক আরো বলেন, ‘বর্তমানে  স্কুল বন্ধ অথচ অনেক শিক্ষক বদলির জন্য পাগল হয়ে গেছে। খুব সম্ভবত অনেকে বদলির জন্য টাকাও ইনভেস্ট করেছে। আমি দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশ্যে বলছি, অনলাইনে বদলি দেরি হলে হোক এরপরও ম্যানুয়ালি শিক্ষক বদলি করা হবে না।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু করতে চেয়েছিলো ডিপিই। তবে সফ্টওয়্যার জটিলতায় সহসায় শুরু হচ্ছে না অনলাইনে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিই’র মহাপরিচালক এ এম মনসুর আলম  বলেন, সফটওয়ার বানানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন ট্রায়াল চলছে। এছাড়া ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত তো স্কুল বন্ধ। তবে অনলাইনে বদলি শুরু করতে আরো সময় লাগবে।

অনলাইনে সময় লাগার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, সারা দেশে ৬৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব স্কুলে রয়েছে প্রায় ৪ লাখ শিক্ষক। বিষয়টি এত সহজ নয়। দেখা যাচ্ছে, অনলাইনে বদলি কার্যক্রম শুরু করা হলো কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে সারা দেশে হইচই পড়ে গেলো। এ জন্য টেস্ট রান করা হচ্ছে।

ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে অনলাইনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলির লক্ষ্য প্রস্তুতকৃত সফ্টওয়্যারে নতুন বিষয়গুলো ইনপুট দেয়া নিয়ে বদলি কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। ফলে নভেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এ সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে কিছু বদলি করার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে গেছে।

জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব বন্ধে এ কার্যক্রম অনলাইন ভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একটি সফ্টওয়্যার তৈরি করে এর মাধ্যমে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম জানুয়ারিতে শুরু হয়, চলে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিবছর এই বদলি নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বদলির সময় অধিদপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে দালালরা শিক্ষকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা।