ধর্ম, সুবিচার, বন্টন ও হযরত আলী (রাঃ) একটি ঘটনা

ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম। ইসলাম হচ্ছে পরিপূর্ণ জীবন বিধান। মানুষের জীবনের সকল বিষয় সম্পর্কে যতরকম সমস্যা বা প্রশ্ন আছে তার সমাধান সুন্দর করে ইসলাম ধর্মে বর্ণনা করা আছে। কুরআন ও হাদীসের মধ্যে সকল প্রশ্নেরই উত্তর দেওয়া আছে। যেগুলোর উত্তর স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই, সেগুলোর সমাধান ইসলামিক জ্ঞানসম্পন্ন মনিষীরা বিচক্ষণতার আলোকে সমধান দিতেন। খলিফা হযরত আলী রাঃ এর শাসনামলের সময়ের একটি ঘটনা বর্ণনা করছি।

গতকালই একটি ওয়াজে একজন বক্তার বয়ানে ঘটনাটি শুনলাম। আরবের দু'জন লোক কাজের ফাঁকে একসাথে খেতে বসেছে। ঠিক ঐ সময় একজন মুসাফির আসলেন। সে ক্ষুধার্ত ছিলো। দুজন লোক ঐ ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে খাবার খেতে বসলো। পূর্বের দুজন লোকের একজনের নিকট ছিলো পাঁচটি রুটি, আরেক জনের নিকট ছিলো তিনটি রুটি। মোট আটটি রুটি তিন জন মিলে একত্রে খাবারগুলো সমানভাবে ভাগ করে খেয়ে নিলো।

খাওয়ার শেষে ঐ মুসাফির লোকটি আট দিরহাম দিয়ে চলে গেলো। এখন ঐ দিরহাম ভাগ করার সময় সমস্যা দেখা দিলো। কে কত দিরহাম নিবে এ নিয়ে তুমুল ঝগড়া। শেষ পর্যন্ত আলী রাঃ নিকট আসলেন সমাধান করে দেবার জন্য। আলী (রাঃ) ঘটনাটি শুনে বললেন, যার পাঁচটি রুটি ছিলো সে সাত দিরহাম পাবে আর যার তিনটি রুটি ছিলো সে পাবে এক দিরহাম। আপনি নিশ্চয়ই অবাক হয়ে গেছেন বিচার ও বন্টনের কথা শুনে। ঐ দুজন লোকও অবাক হয়েছিলো। তখন আলী রাঃ ব্যাখ্যা করে বললেন, দেখো, প্রতিটি রুটি তিন টুকরো করলে মোট হবে চব্বিশ টুকরো। এখন, তিনজন সমান করে খেলে সবার ভাগে পড়ে আট টুকরো। যার রুটি তিনটি তার টুকরো হবে নয়টি, এরমধ্যে সে নিজেই খেয়েছে আটটি। বাকি থাকলো এক টুকরো। অপরদিকে যার রুটি ছিলো পাঁচটি, তার টুকরো হবে পনেরোটি সে নিজে খেয়েছে আটটি বাকি রইলো সাত টুকরো। ঐ লোকটি দিরহাম দিয়েছিলো আটটি।

খেয়েছিলেন আট টুকরো। তাই প্রতি টুকরোর জন্য এক দিরহাম বন্টন করে দিলাম। যার পাঁচ রুটি ছিলো সে পাবে সাত দিরহাম যেহেতু তার রুটি থেকে সাত টুকরো খেয়েছিলো। আর অন্য লোকটি পাবে এক দিরহাম, যেহেতু উনার থেকে খেয়েছে এক টুকরো রুটি। উনার বন্টনের ব্যাখ্যা শুনে দুজনেই সন্তুষ্ট হয়ে চলে যায়। উনাদের জ্ঞানের গভীরতা কতটা শক্তিশালী ছিলো যা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মাথায়ই আসবে না। উনাদের চিন্তা আদর্শ, নীতি অবলম্বন করেই আমাদের সামনে অগ্রসর হতে হবে। হযরত উমর (রাঃ) অর্ধ পৃথিবীর শাসক হওয়া সত্ত্বেও নিজ ভৃত্যকে উটের উপর বসিয়ে, নিজে মরুভূমিতে উটের রশি ধরে পথ চলেছেন। মদ্যপানের অপরাধে স্বীয় পুত্রের শরীরে চাবুকের আঘাত করতেও হাত কাঁপেনি।

হযরত আবুবকর (রাঃ), হযরত উছমান (রাঃ) নিজেদের সকল ধনসম্পদ ইসলামের কল্যাণে দান করে দিয়েছেন। উনাদের সকলের মাঝেই সবরকমের মহৎ গুণগুলোই বিদ্যমান ছিলো। কোরআন, হাদীসের আলোকেই সকল মুসলিমদের জীবন সাজাতে হবে। ইসলাম শব্দের অর্থই হচ্ছে শান্তি। সালাম শব্দের অর্থও শান্তি।

কারও সাথে দেখা হলে, প্রথমেই সালাম দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই, আমাদের সকলেরই ইসলামের সৌন্দর্য রক্ষা করে চলা প্রয়োজন। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য, মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ) আদেশ দিয়ে গেছেন। ঝগড়া, বিবাদ, ফিৎনা, ফাসাদ এগুলো থেকে নিজেদের মুক্ত রেখে সবাই যেন সঠিক পথে চলতে পারি, আল্লাহর নিকট সেই কামনাই করছি। হে মহান আল্লাহ আপনি সকলকে হেফাজত করুন। আল্লাহ সর্বশক্তিমান।।

মোঃ সাইফুল হক খান সাদী।