সফলতা ও ব্যর্থতা বলতে কিছুই নেই, শুধুই অনুভূতি ও ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির তফাত

দশজনের মধ্যে আটজন লোকই জীবনের একটা সময়ে এসে চিন্তা করে সে জীবনে অসফল। সে যতই ভালো অবস্থানে থাকুক না কেন, তাতে তার সন্তুষ্টি কমই থাকে। সে ভাবে, সে আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারতো।

সে আফসোস করে যদি আবারও আরেকটা সুযোগ পেতাম তবে ভুলগুলোকে সংশোধন করে নিতাম। কিন্তু সেটা কখনোই সম্ভব নয়। সময় কখনও ফিরিয়ে নিয়ে আসা যায় না। আর যদি, সময় ফিরিয়েও দেওয়া হতো, তবুও সে কিছু না কিছু ভুল করবেই।

পরিপূর্ণ সফলতা কেউই অর্জন করতে পারে না। কেউ কেউ নিজেদের ব্যর্থতা গুলো নিজের সন্তানকে দিয়ে পূরণ করতে চায়। এতে করে ছোট্ট শিশুর উপর বয়স্ক চিন্তা, মানসিকতার বিরূপ প্রভাব পড়ে। যা মোটেও কাম্য নয়। আমাদের, নিজনিজ অবস্থান থেকেই সন্তুষ্টি থাকতে হবে। কখনও নিজের মধ্যে হতাশার জন্ম দেওয়া যাবে না।

হতাশা থেকেই সকল অনিষ্ট শুরু হয়। লাইনচ্যুত না হয়ে পরিশ্রম করে নিজের ভাগ্যের চাকা অনুকূলে নিয়ে আসতে হবে। এই সংসারে সুখি হতে হলে, নিজের চাওয়াটা কমিয়ে দিয়ে অন্যর সাথে নিজের তুলনাটা বাদ দিতে হবে। এতে করে আপনার মনের মধ্যে প্রশান্তি চলে আসবে। আমি মনে করি, সফলতা হচ্ছে, নিজ কর্ম দ্বারা এমন কোন আদর্শ বা আলোর সন্ধান রেখে যাওয়া, যা দিয়ে অন্য লোকেরা উপকৃত হবে। বাহির থেকে দেখা একজন চূড়ান্ত সফল ব্যক্তিও নিজেকে, কোন একটা সময় খুব অসহায় ভাবে। নিজের বর্তমান পজিশন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকুন।

সৎ ভাবে চেষ্টা করুন নিজের সফলতার চাকাটা ঘুরানো যায় কি না। এর কোন নির্দিষ্ট বয়স ও উপায় নির্ধারিত নেই। আল্লাহ যখনই চাইবেন তখনই আপনি সফল হবেন। মহান আল্লাহতালা আমাদেরকে এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন উনার ইবাদত করার জন্য। সর্বদা উনার আনুগত্য স্বীকার ও হুকুম পালন করার জন্য। যেকোন খারাপ সময়ে ধৈর্য্য ধারণ করা, প্রকৃত মোমিন ব্যক্তির কাজ।

নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সঙ্গে আছেন। আমাদের সকলকে জীবনের প্রাপ্ত ব্যর্থতা, সফলতা বিবেচনা না করে পরকালের জন্য পুণ্য সঞ্চয় করাই উচিত। আল্লাহ সকলকে সঠিক পথের সন্ধান দান করুন। (এক বন্ধুর অনুপ্রেরণায় হাজারো বন্ধুর উদ্দেশ্যে আজকের এই পোস্ট।)

মোঃ সাইফুল হক খান সাদী

অনার্স, মাস্টার্স সমাজবিজ্ঞান।