জন্ম নিবন্ধন জটিলতায় উপবৃত্তি প্রত্যাশী উখিয়ার ৫ হাজার শিক্ষার্থী

জন্ম নিবন্ধন ও সার্ভার সমস্যার কারণে উখিয়ার ৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সার্ভার জটিলতায় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। ভোগান্তি ও সমস্যা নিরসনে উপবৃত্তির টাকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে শিশু শিক্ষার্থীদের সহজ শর্তে জন্ম নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জন্ম নিবন্ধন সমস্যা সমাধানে কয়েকদফা সময় বাড়িয়েও নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী উপবৃত্তি বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় উপবৃত্তি বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক উখিয়া সদর এলাকার শামছুল আলম ও হরিণমারা গ্রামের গিয়াস উদ্দিন জানান, আগে উপবৃত্তির টাকা পেতে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি। কিন্তু এবার জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। আগে যেসব অভিভাবক জন্ম নিবন্ধন করেনি তাদেরও জন্ম নিবন্ধন করতে হচ্ছে। এতে আরো জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

এক ছাত্রীর অভিভাবক নুরুন্নবী জানান, নিবন্ধনের কারণে উপবৃত্তি না পেলে প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিকল্প যে কোনো উপায়ে উপবৃত্তি পাওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানান অভিভাবকরা। উখিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এস এম কামাল উদ্দিন জানান, জন্ম নিবন্ধন না থাকায় অনেক শিশু শিক্ষার্থী উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

করইবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জানে আলম জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী বিষয়টি না জানার কারণে জন্মনিবন্ধন করেননি। এ অবস্থায় অভিভাবকরা জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার ধর জানান, এ উপজেলায় ৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

হঠাত্ করে উপবৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করায় আনুমানিক ৫ হাজার শিক্ষার্থী উপবৃত্তির টাকা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ নিয়ে ছাত্রছাত্রী অভিভাবকের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার অভিযোগ পুরনো।

তাই কক্সবাজার এলাকার জন্মনিবন্ধন একটু ব্যতিক্রম ঘটনা, যা দেশের অন্যান্য এলাকায় নেই। দুর্নীতিরোধ ও উপযুক্ত শিক্ষার্থীদের হাতে উপবৃত্তি পৌছানোর জন্যই জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার