“ওয়ার্ক সিট / অ্যাক্টিভিটি সিট / বাড়ির কাজ“ যেসব কারণে বিঘ্নিত হতে পারে শিশু শিক্ষার্থীদের

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপদে রাখতে বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ সময়ে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্য্যক্রম অব্যাহত রাখতে রেডিও, টিভির পাশাপাশি চালু করা হয়েছে অনলাইনে গুগল মিট ক্লাস।

নানামূখী কার্য্যক্রমের সাথে যুক্ত হয়েছে অন্তর্বতীকালীন পাঠ পরিকল্পনা অনুয়ায়ী প্রথম হতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে ওয়ার্কশীট পৌঁছানো ও একইভাবে তা শিক্ষার্থীদের পূরণ করার পর সংগ্রহ করে মূল্যায়ন করে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক প্রোফাইল তৈরি করা।

করোনাকালীন সময়ে এটি সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য হলেও দু একটি ব্যতিক্রম ছাড়া দেশের অধিকাংশ শিক্ষকই নিষ্ঠার সাথে দায়িত্বটি পালন করছেন। তাঁদের গ্রামের এমাথা থেকে ওমাথা পর্যন্ত করতে হচ্ছে ছোটাছুটি।

ইতিমধ্যেই জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি নেপ প্রণয়ন করেছে ২৯ মে হতে ৮ জুলাই পর্যন্ত ৬ সপ্তাহের অন্তর্বতীকালীন পাঠ পরিকল্পনা। সাথে পরীক্ষামূলকভাবে দেওয়া হয়েছে সকল বিষয় মিলে ৩৮৫ পৃষ্ঠার বাড়ির কাজ।

মাধ্যমিকের এ্যাসাইনমেন্টের আদলে প্রাথমিকে বাড়ির কাজ দেওয়া হলেও তা সংক্ষিপ্ত করা হয়নি মাধ্যমিকের মত। ওয়ার্কশিট মুদ্রণ/ফটোকপি বাবদ শিক্ষার্থীদের নিকট হতে নেয়া যাবেনা কোন অর্থ। ব্যয় করতে হবে বিদ্যালয়ের স্লিপ ফাণ্ড হতে। দেওয়া হয়েছে এমনই নির্দেশনা।

জানা যায় গত ৩০ মার্চ বিদ্যালয় খুলে দেবার কথা থাকার কারণে দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয় তাদের স্লিপ ফান্ডের অর্থের বেশির ভাগই কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যয় করে ফেলেছেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী, বিদ্যালয় সজ্জিতকরণ ও বাজেট অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে। ফলে বেশির ভাগ বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ডে তেমন কোন অর্থ অবশিষ্ট নেই।

নতুন করে পাঠপরিকল্পনা, বাড়ির কাজের জন্য ওয়ার্কশিট মুদ্রণ/ফটোকপি, ও শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক প্রোফাইল তৈরিতে প্রতিটি বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থী সংখ্যা অনুযায়ী ২০ হতে ২৫ হাজার টাকা ছয় সপ্তাহে ব্যয় করতে হবে।যা এ মুহুর্তে স্লিপ ফাণ্ডে নেই। পূর্বের বাড়ির কাজ নির্দেশনা অনুযায়ী লকডাউন উঠে যাবার পর প্রথম দিন হিসাবে ধরে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও দেশের অনেক এলাকায় অতি উৎসাহী কয়েকজন কর্মকর্তা ও শিক্ষকের কারণে বাস্তবায়ন করতে গিযে অনেক বিদ্যালয স্লিপ ফাণ্ডের অবশিষ্ট অর্থ ব্যয় করে ফেলেছে।

বাড়ির কাজের আধিক্য ও অর্থ স্বল্পতায় দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়ের পক্ষে হয়তবা ৬ সপ্তাহের এ ওয়ার্কশিট বিতরণ করা সম্ভব হবেনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কন্যাদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন,' করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে ওয়ার্কশীট বিতরণ ও মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ কার্য্যক্রম চালিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ প্রয়োজন। তিনি জানান তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ির কাজ ফটোকপি বা মুদ্রণে ব্যয় হবে আঠারো হাজার টাকা। স্লিপ ফাণ্ডে কোন টাকা না থাকায় তিনি এ খাতে জরুরী বরাদ্দের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আবুল কাসেম এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিক্ষাকে জানান পৃথকভাবে প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ না দিলে এ উদ্যোগ ব্যর্থ হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েকজন কর্মকর্তার মৌখিক আদেশে ও অতি উৎসাহী কিছু শিক্ষক সরকারি নির্দেশনা না মেনে ইতিমধ্যেই স্লিপের সব টাকা ব্যয় করে ফেলেছেন। তিনি প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দসহ বাড়ীর কাজের পরিমাণ কমানোর দাবী জানিয়েছেন। একই সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীনও বাড়ির কাজের পরিমাণ কমিয়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেবার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান।