প্রাথমিক শিক্ষকদের মানোন্নয়ন করা যায় বেতন বৃদ্ধি ছাড়াও

প্রাথমিক শিক্ষকদের সবসময়  আশা ছিল তারা একটা সন্মানজনক বেতন পেয়ে জীবন নির্বাহ করতে পারবেন।শেখ হাসিনার সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে তাদের সেই আশা বেশী দূড় হয়।কারন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারই বারবার প্রাথমিক শিক্ষার ও শিক্ষকদের জীবন মানোন্নয়নে ভূমিকা রেখে গেছেন।বঙ্গবন্ধুই সর্বপ্রথম  প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেছিলেন। তার সুযোগ্য দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের সাহস দেখিয়েছেন।

বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পহেলা জানুয়ারিতেই বই বিতরন করা হচ্ছে।ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীদের মাসিক উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।যা এক সময় চিন্তার বাইরে ছিল।এমনকি এখন সরকার এখন মিড-ডে মিল চালুও করার কথা ভাবছে।যার আওতার শিক্ষার্থীদের দুপুরের টিফিনে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হবে।এই উদ্যেগগুওলো সবসময়ই প্রসংশার দাবিদার।কিন্তু আমরা একটি ক্ষেত্রে সবসময় পিছিয়ে আছি।সেটি হল শিক্ষকদের মান উন্নোয়ন।বলা বাহুল্য এটি ছাড়া আমরা যাই করি না কেন প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত পরিবর্তন আসবে না।

প্রাথমিক শিক্ষকদের সবসময় একটা দাবি ছিল সন্মানজনক বেতন।নিতান্তই যৌক্তিক আর যুগান্তকারি দাবি।কারন ভালো বেতনই পারে মানসম্পন্ন শিক্ষকের যোগানের নিশ্চয়তা দিতে।আর এশিয়া মহাদেশের কোন দেশে এত কম বেতন পাওয়ার রেকর্ড নেই প্রাথমিক শিক্ষকদের।পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিবঙ্গে একজন শিক্ষক ২৯ হাজার টাকায় প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করে।আবার অন্য রাজ্যেগুলোতে বেতনের পরিমান আরো বেশী।ভারতের জিডিপির তুলনায় এই বেতন বাংলাদেশের চেয়ে অনেক  বেশী।

আমাদের সবেধন নীলমনি হল বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য ১৩ তম গ্রেড নির্ধারণ করেছেন।আর প্রাথমিক প্রাধান শিক্ষকেরা ১১ গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন।আমাদেরএকান্ত আশা সরকার অন্তত প্রাধান শিক্ষকদের জন্য ১০ম গ্রেড আর সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড নির্ধারণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী বরাবরই  অবশ্য এই দাবির প্রতি আন্তরিক ছিলেন।কিন্তু আমদের নিজ বিভাগের বড়বাবুদের দৌড়াত্নে সব কেন জানি থমকে আছে।আমরা আশা করি আমাদের পথ প্রদর্শক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব আপত্তি উপেক্ষা করে সহসাই শিক্ষদের সন্মানজনক বেতনের দাবি পূরণ করবেন।

এতকিছুর পরো যেহেতু সরকার আমাদের আপাতত যথাযথ বেতন বাড়াতে সফল হচ্ছে না।তাই প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী যা প্রাথমিক শিক্ষার গুনোগত মান উনন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।যেমনঃ

(১)প্রতিটি বিদ্যালয়ে এমনভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া উচিত যাতে ।একজন শিক্ষককের ২টার বেশী ক্লাশ করতে না হয়।এ সম্পর্কে যুক্তি হল একজন শিক্ষককে অনেক ক্লাশ নিতে হয় ।ফলে তিনি চাইলেও ভালোভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে পারেন না।নীতি নির্ধারকেরা একটা ক্লাশ নেবেন কি?

(২)শুধু পড়াশোনা করলেই ভালো মানুষ হওয়া যায় না।এজন্য ধর্মীয়,সাংস্কৃতিক,নৈতিক মূল্যবোধ  থাকাটাও জরুরী।এজন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুজন ধর্ম শিক্ষক,একজন করে সংগীত এবং খেলাধূলার শিক্ষক নেওয়া দরকার।বলাবাহুল্য এসব সম্ভব হলে এমনিই ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত বাড়বে।কারন এতে সেসব শিক্ষক নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়ে অন্য ক্লাশ  পরিচালনা করতে পারবেন ।

(৩) প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন নার্স নিয়োগ করা যেতেই পারে।প্রায়শই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা  বিভিন্নভাবে আহত হয়।একজন প্রশিক্ষিত নার্স শিক্ষার্থীদের সরাসরি উন্নত মানের সেবা প্রদান করতে পারবেন।বলা হয়ে থাকে স্বাস্থ্যেই সকল সুখের মূল।তাইন এটা ভেবে দেখা যেতেই পারে।পাশাপাশি তিনি নিসন্দেহে প্রাথমিক বিজ্ঞান পড়াতে পটু হবেন ।একথা বলাই যায়।

প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে আমি অনেক গবেষণা,টকশো,চিঠি দেখেছি-পড়েছি।কিন্তু আমার বরাবরই মনে হয়েছে ক্লাশের সংখ্যা না কমালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মান কখনোই বাড়বে না।আর এজন্য দরকার আরো অনেক ভালো মানের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।