মাধ্যমিকের সঙ্গে সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় কোন আদেশে চলবে

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিচালনা করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর বাইরে যত ধরনের একাডেমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, সবগুলোই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু যেসব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয় সংযুক্ত রয়েছে, সেখানে কোন মন্ত্রণালয়ের আদেশ চলবে, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন খোদ প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরাই। এত দিন মাধ্যমিক সংযুক্ত প্রাথমিক স্তরগুলো কোথাও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবার কোথাও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশ-নির্দেশ পালন করে আসছিল।

দেশের মহানগরীগুলোতে বেশির ভাগ নামী বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রাথমিক স্তর যুক্ত করেছে। ঢাকার মনিপুর, আইডিয়াল, ভিকারুন নিসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত রয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সরাসরি তদারক করে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, ‘৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিকের বাইরে অন্য কোনো প্রাথমিক স্তরের নিয়ন্ত্রণ-তদারকি আমাদের কাজ নয়।’ আর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, ‘আমরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে উচ্চ স্তর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করে থাকি। কোনো ধরনের প্রাথমিক আমাদের নয়।’ দুই অধিদপ্তরের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে দ্বিধাবিভক্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরাও।

শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই দুটি মন্ত্রণালয়ই পৃথক পৃথক ছুটির তালিকা প্রকাশ করে। এতে দুই মন্ত্রণালয়ের ছুটির তালিকায়ও ভিন্নতা রয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এসংক্রান্ত আদেশ পালন করে। আর বেশির ভাগ মাধ্যমিক সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছুটির তালিকা অনুসরণ করে। এছাড়া এক শিফট স্কুল কীভাবে চলবে, কখন কয়টা চলবে, দুই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও ভিন্ন। সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এসংক্রান্ত আদেশ পালন করলেও মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক সংযুক্ত প্রাথমিক স্কুলগুলো নিজেদের মতো পরিচালনা করে। কোনো মন্ত্রণালয়ের আদেশই পালন করে না।

সম্প্রতি রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০ রমজান (২২ এপ্রিল, শুক্রবার) পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে নোটিশ জারি করে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০ এপ্রিল (১৮ রজমান) পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখার নির্দেশনা জারি করে। এছাড়া রমজান মাসে শুক্র ও শনিবার প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখারও নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দুই মন্ত্রণালয়ের দুই ধরনের স্কুল চালু রাখার আদেশ জারি করায় বিপাকে রয়েছে মাধ্যমিক সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো।

দেশে ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের। এর বাইরে যতসংখ্যক প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকুক না কেন, এই মন্ত্রণালয়ের নয়—এমনটি জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) ড. উত্তম কুমার দাশ। তিনি বলেন, ৬৫ হাজারের বাইরে যেসব প্রাথমিক স্কুল, মাধ্যমিক সংযুক্ত প্রাথমিক স্কুল রয়েছে, সেখানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর শুধু বিনা মূল্যে বই দিয়ে থাকে। আর গত দুই বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনিও হয়নি। তাই বিনা মূল্যে বই দেওয়া ছাড়া ঐ সব প্রতিষ্ঠানে কোনো কতৃ‌র্ত্ব আমাদের নেই। সেখানে নিয়োগ, ছুটি সবই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে চলবে।

তবে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে ভিন্ন কথা। অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা যেসব আদেশ জারি করি, তা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত। আর রমজানের ক্ষেত্রেও আমরা বলেছি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রাথমিকও বলিনি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাও বলিনি।’ মাধ্যমিক সংযুক্ত প্রাথমিক শাখার সবকিছু প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে চলবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

রাজধানীর কিশলয় বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রহমত উল্লাহ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা দ্বিধায় আছি।’ বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চান তার মতো অনেক শিক্ষক।

সুত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক